টানা ভারী বৃষ্টিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে করে বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে প্রশাসনের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দুর্গত মানুষের জন্য একাধিক আর্থিক সাহায্য ও ত্রাণের ঘোষণা করেন তিনি।

মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা

বন্যায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃতদের পরিবারপিছু মোট ৯ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ও জেলা তহবিল থেকে এই অর্থ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

– বিজ্ঞাপন –

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে ৩০ হাজার টাকা

প্রশাসনের হিসাবে, সবংয়ে প্রায় ৩২০০টি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। দুর্গতদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ত্রাণ, পানীয় জল ও রেশনের ব্যবস্থা

জলমগ্ন এলাকায় দুর্গত মানুষের কাছে শুকনো খাবার, পানীয় জল ও রেশন পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জলবন্দি পরিবারগুলির প্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের জন্য শস্যবিমার ব্যবস্থা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি শস্যবিমা প্রকল্পের আওতায় দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গত এলাকায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিবির করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কিছুটা কমছে কেলেঘাইয়ের জল

প্রশাসন সূত্রে আপাতত কিছুটা স্বস্তির খবরও মিলেছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় কেলেঘাই নদীর জলস্তর কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতির উপর এখনও নজর রাখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানেও জোর

দক্ষিণবঙ্গের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়েও কাজ এগোচ্ছে। রাজ্যের ২০২৬-২৭ বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, এক দিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা, অন্য দিকে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা—দুই দিকেই জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *