মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট: ০ (৪) নর্থইস্ট ইউনাইটেড: ০ (৩)  

খবর অনলাইন ডেস্ক: গোলশূন্য ম্যাচের পর উত্তেজনাপূর্ণ পেনাল্টি শুটআউটে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এর ফাইনালে উঠল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বৃহস্পতিবার শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নির্ধারিত সময়ে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। এর পর টাইব্রেকারে মোহনবাগানের জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ।

– বিজ্ঞাপন –

ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল

ফাইনালে মোহনবাগানের সামনে রয়েছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এফসি। রবিবার কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হবে ডুরান্ড কাপের মহারণ। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে এ বার দেখা যাবে কলকাতার দুই প্রধানের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ।

ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব

বৃষ্টিভেজা মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলকে ছন্দ খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছিল। প্রথম ২০ মিনিটে মাঝমাঠের দখল কোনও দলই পুরোপুরি নিতে পারেনি। ভেজা মাঠে ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ায় দুই দলই বারবার রক্ষণভাগের পিছনে লম্বা বল বাড়ানোর চেষ্টা করে।

প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে। মোহনবাগানের লিস্টন কোলাসোর ফ্রি-কিক দুর্দান্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের গোলরক্ষক গুরমিত সিং। কিছুক্ষণ পর কিয়ান নাসিরি বক্সের ভেতরে সতীর্থদের পাস না দিয়ে কঠিন কোণ থেকে শট নেন। তবে তাঁর শট গোলের বদলে জালের বাইরের দিকে লাগে।

আজারাইয়ের সুযোগ, সাহালের দূরপাল্লার শট

প্রথমার্ধের প্রায় ৩০ মিনিটের মাথায় নর্থইস্ট ইউনাইটেডের আলাউদ্দিন আজারাই সেট-পিস থেকে আসা উঁচু বল নিয়ন্ত্রণ করে ভলি করেন। তাঁর শট অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে না পারায় সেট-পিসই দুই দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধের এই সময়ে দুই দলই তিনটি করে কর্নার আদায় করে।

বিরতির ঠিক আগে মাঝমাঠে বল দখলে নেন সাহাল আবদুল সামাদ। নর্থইস্টের গোলরক্ষক গুরমিত তখন কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। সেই সুযোগে সাহাল দূরপাল্লা থেকে চমকপ্রদ শট নেন। বলটি লক্ষ্যভেদ করতে পারে বলে মনে হলেও গুরমিত দ্রুত ফিরে এসে তা আটকে দেন। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

জিতল মোহনবাগান। ছবি Mohun Bagan Super Giant ‘X’ থেকে নেওয়া।

দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা নেই

দ্বিতীয়ার্ধের ছবিটাও খুব একটা বদলায়নি। দুই দলই আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলির একটি পায় নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ডান প্রান্ত থেকে আবদুল রাবিহ নিখুঁত নিচু ক্রস বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু সেই বলে সামান্যর জন্য পা ছোঁয়াতে পারেননি আজারাই।

এর পরও তুলনামূলক ভাবে ভালো সুযোগ তৈরি করতে থাকে নর্থইস্ট। বাম দিক থেকে আক্রমণ শুরু করে বল দ্রুত ডান দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বক্সের মধ্যে ক্রস পেয়ে সুযোগ তৈরি হয় ম্যাকার্টন নিকসনের সামনে। কিন্তু তাঁর শটও গোলের বদলে জালের বাইরের দিকে চলে যায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে গোলশূন্য অবস্থায় ম্যাচ শেষ হওয়ায় ফাইনালে ওঠার ভাগ্য নির্ধারিত হয় পেনাল্টি শুটআউটে।

কাইথের দুই সেভে বাজিমাত মোহনবাগানের

পেনাল্টি শুটআউটের প্রথম তিনটি করে শটে দুই দলই গোল করায় লড়াই ছিল সমানে সমান। এর পরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বিশাল কাইথ।

নর্থইস্ট ইউনাইটেডের হয়ে চতুর্থ পেনাল্টি নিতে আসেন রবিন যাদব। তাঁর শট অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন কাইথ। এর পর মোহনবাগানের হয়ে পেনাল্টি নিতে এসে কোনও ভুল করেননি জেমি ম্যাকলারেন। তাঁর গোলের ফলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

এর পর নর্থইস্টের হয়ে পেনাল্টি নিতে আসেন পার্থিব গগৈ। তাঁকেও আটকে দেন কাইথ। পরপর দুটি পেনাল্টি রুখে দিয়ে মোহনবাগানকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *