নিজের স্পষ্টভাষী স্বভাব আর ঠোঁটকাটা মন্তব্যের জন্য প্রায়শই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন পরিচালক অনুরাগ কশ্যপ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। প্রোডাকশন হাউসের প্রাক্তন কর্মী ও সহকারী পরিচালক শুভ্রা শেট্টীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ এক দশকের সম্পর্ক। দুটি বিবাহবিচ্ছেদের পর ফের কি আইনিভাবে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন পরিচালক? এই প্রশ্নের জবাবে অনুরাগ জানান, শুভ্রা নিজে প্রাতিষ্ঠানিক বিয়েতে বিশ্বাস করেন না। তবে অনুরাগের অনুভূতির গভীরতা স্পষ্ট; তাঁর কথায়, “আমি ওর সঙ্গে ভীষণ সুখে আছি এবং ওকে পাশে পেতে যা যা করা প্রয়োজন, সব করব। আসলে আমার মতো প্রবীণ মানুষের নতুন করে হারানোর তো কিছু নেই।”

সাক্ষাৎকারে তাঁদের প্রেমের শুরুর দিকের একটি আবেগপ্রবণ স্মৃতির কথা তুলে ধরেন শুভ্রা। সম্পর্কের একেবারে প্রথম পর্বে স্রেফ মজার ছলেই শুভ্রা অনুরাগকে বলেছিলেন, প্রেমে পড়া তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান ইচ্ছে ছিল এবং সেই স্বপ্নপূরণ হওয়ায় এবার তিনি শান্তিতে মরতেও তৈরি! কিন্তু সেই হালকা রসিকতাকেই অত্যন্ত গম্ভীরভাবে নিয়ে ফেলেছিলেন পরিচালক। শুভ্রার কথায়, সেই কথা শুনে হঠাৎই ভাবুক হয়ে পড়ে অনুরাগ বলেছিলেন, “আগে গাড়ি দুর্ঘটনা হলেও আমার ভয় করত না, কোনও কিছুর পরোয়া করতাম না। কিন্তু আজ প্রথমবার মনে হচ্ছে, বেঁচে থাকার মতো শক্ত একটা কারণ খুঁজে পেয়েছি। তাই এখন আর মরতে চাই না।” বহু বছর পর সেই পুরোনো স্মৃতির পুনরাবৃত্তি হতেই সাক্ষাৎকারের মাঝেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি পরিচালক, তাঁর চোখে জল চলে আসে।

অনুরাগ এবং শুভ্রার বয়সের ফারাক প্রায় ২০ বছরের। বর্তমানে শুভ্রা ৩০ পেরিয়েছেন এবং অনুরাগের বয়স ৫৩ বছর। প্রায় এক দশক আগে সমাজমাধ্যমে শুভ্রার সঙ্গে ছবি পোস্ট করার পর থেকেই এই বয়সের ফারাক নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা ট্রোলিং ও কটাক্ষের মুখোমুখি হতে হয়েছিল দু’জনকেই। তবে অনুরাগের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমালোচকদের মুখ বন্ধ হয়েছে। অনুরাগের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থায় সহকারী পরিচালক হিসেবে শুভ্রার কাজের সূত্র ধরেই প্রথম আলাপ এবং সেখান থেকেই এই দীর্ঘ প্রেমের সূচনা, যা আজ দশ বছর পরও সমান ভালোবাসায় অটুট। এর আগে অভিনেত্রী কল্কি কোয়েচলিনকে বিয়ে করেছিলেন অনুরাগ কাশ্য়প। তবে তাঁদের সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *