খবর অনলাইন ডেস্ক: আইন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং ২০২৬ সালের স্নাতকদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দিয়ে যে চিঠি বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (বিসিআই) দিয়েছিল, তার তীব্র সমালোচনা করলেন নালসার ইউনিভার্সিটি অব ল’-এর ৪০০-র বেশি প্রাক্তনী। যদিও পরে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয় বিসিআই।

শুক্রবার বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানমানন কুমার মিশ্রকে লেখা এক খোলা চিঠিতে প্রাক্তনীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ‘নিপীড়নের চেষ্টা’ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পরে নির্দেশগুলি প্রত্যাহার করা হলেও প্রথম চিঠির ভাষা ও পদক্ষেপ থেকেই একটি ‘উইচ হান্ট’ বা প্রতিহিংসামূলক অনুসন্ধানের মনোভাব স্পষ্ট।

– বিজ্ঞাপন –

১৩ আগস্টের প্রথম চিঠিতে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, নালসারের ২০২৬ সালের স্নাতকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত করা যাবে না। একই সঙ্গে এমন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের চিহ্নিত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল, যাঁরা সমাবর্তনে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন।

পরে প্রবল সমালোচনার মুখে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ওই নিষেধাজ্ঞা এবং তদন্তের নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু প্রাক্তনীদের দাবি, এই ঘটনা দেখিয়েছে যে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যথাযথ সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে।

কী বললেন প্রাক্তনীরা

প্রাক্তনীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মতপ্রকাশের বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার কোনও এখতিয়ার বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার নেই। তাঁদের মতে, নালসারের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও অধ্যাপকদের কাছে যে ই-মেল পাঠিয়েছিলেন, তা ছিল সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আইনজীবীদের পেশাগত নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশিক্ষার মান বজায় রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সংস্থার পক্ষে এ ধরনের বিষয়ে ‘শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উইচ হান্ট’ চালানো সমীচীন নয়। প্রাক্তনীদের অভিযোগ, বার কাউন্সিলের চিঠির ভাষায় এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত।

বিজ্ঞাপন

তাঁদের মতে, নালসার নিয়ে বার কাউন্সিলের কোনও মতামত থাকলে তা ভয় দেখানো বা চাপ সৃষ্টি করার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে জানানো উচিত ছিল। জনসমালোচনার পর নির্দেশ প্রত্যাহার করাকে তাঁরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, প্রথমে এমন নির্দেশ জারি করার প্রয়োজনই ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন।

বার কাউন্সিলের তীব্র সমালোচনা প্রধান বিচারপতিরও

শুক্রবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার ওই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। নালসারের ২০২৬ সালের স্নাতকদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তি বন্ধ করার নির্দেশকে তিনি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া সমস্ত রাজ্য বার কাউন্সিলকে নির্দেশ দিয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নালসারের ২০২৬ সালের কোনও স্নাতককে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত করা যাবে না। একই সঙ্গে বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবাদের পর সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে নালসারের একাংশের শিক্ষার্থী উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও অধ্যাপকদের কাছে ই-মেল পাঠিয়ে সমাবর্তনের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সমাবর্তনের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *