পুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি? কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসকে ঘিরে সেই জল্পনাই আরও জোরাল হচ্ছে। পুরভোটের আগে দুই পুর এলাকার ওয়ার্ডের সীমানা নতুন করে সাজাতে বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। বুধবার বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম সংক্রান্ত বিল নিয়ে আলোচনা হয় এবং ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব সামনে আসে।
বর্তমানে কলকাতা পুরনিগমে ১৪৪টি এবং হাওড়া পুরনিগমে ৫০টি ওয়ার্ড রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কলকাতায় ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ২০৯টি এবং হাওড়ায় ৬৮টি হতে পারে। অর্থাৎ কলকাতায় ৬৫টি এবং হাওড়ায় ১৮টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ার কথা। সরকারের যুক্তি, জনসংখ্যা ও এলাকার পরিধির তুলনায় বহু ওয়ার্ড বড় হয়ে যাওয়ায় নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে সমস্যা হচ্ছিল। পুনর্বিন্যাসের ফলে সেই সমস্যা কমবে।
– বিজ্ঞাপন –
হাওড়া নিয়ে সরব অগ্নিমিত্রা
বিধানসভায় পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল হাওড়ার পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, হাওড়ায় বেআইনি নির্মাণ, জলনিকাশি ও পানীয় জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। বর্তমান সরকার রাস্তা, নিকাশি ও পানীয় জল নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার তারতম্যের কারণে হাওড়ায় ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ৫০টি ওয়ার্ডকে পুনর্বিন্যাস করে ৬৮টি করা হলে নাগরিক পরিষেবা আরও কার্যকর ভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে সরকারের দাবি।
কলকাতায় ১৪৪ থেকে ২০৯
কলকাতা পুরনিগমের ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ এগিয়েছে। প্রথমে ১৪৪টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে প্রায় ২০০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে নতুন বিন্যাসে সংখ্যা ২০৯-এ পৌঁছেছে।
তবে সব এলাকায় ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ছে না। প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাসে চৌরঙ্গী, জোড়াসাঁকো ও শ্যামপুকুরের মতো কয়েকটি এলাকায় ওয়ার্ড সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নতুন ওয়ার্ডের তালিকা ও সীমানা চূড়ান্ত হওয়ার পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে সর্বদল বৈঠক এবং সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে পুরভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে গেল।
আট বছর ভোট নেই হাওড়ায়
হাওড়া পুরনিগমে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন না হওয়া নিয়েও বিধানসভায় সরব হন শাসকদলের বিধায়কেরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচিত পুরপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক পরিষেবা ও স্থানীয় প্রশাসনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে জনসংখ্যার ভারসাম্য আনার ফলে পরিষেবা আরও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছবে বলে তাঁদের দাবি।
অন্য দিকে, বিরোধী পক্ষ থেকেও হাওড়ার উন্নয়ন ও পুর পরিষেবা নিয়ে পাল্টা বক্তব্য রাখা হয়। এই নিয়ে বিধানসভায় তুমুল বাদানুবাদও হয়।
সব মিলিয়ে কলকাতা ও হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, আসন্ন পুরভোটের আগে তা যথেষ্ট রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত শেষ করে নির্বাচনের পর্বে এগোনো।
