স্মিতা দাস

দুর্গাপুজো আসতে ক্যালেন্ডার ধরে ঠিক দু’মাস বাকি। এই সময়টা যথেষ্ট ড্যামেজ হয়ে যাওয়া স্কিনকে আবার ঘষেমেজে জেল্লাদার করে তোলার জন্য। তাঁর জন্য অবশ্যই লাগবে একটু ধৈর্য ও একাগ্রতা। ওই একদিন পারলাম, একদিন পারলাম না – তাই রূপচর্চা হল না। এই গতে চললে কিন্তু হবে না। তাই পুজোয় নিজেকেও ঝকঝকে আকর্ষণীয় করে তুলতে একটু সময় তো দিতেই হবে। শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের বদলে কয়েকটি সহজ অভ্যাস নিয়মিত মেনে চলাই হতে পারে বেশি কার্যকর।

– বিজ্ঞাপন –

প্রতিদিনের যত্নে কী করবেন?

মুখ পরিষ্কার রাখুন: মুখটা নিয়ম করে পরিষ্কার করুন প্রতিদিন। দিনে দু’বার মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। ঘাম, ধুলো ও অতিরিক্ত তেল জমে থাকলে ত্বক নিস্তেজ দেখাতে পারে। তাই যে ফেসওয়াশ আপনার স্কিন অনুযায়ী উপযুক্ত সেই ধরণের ফেসওয়াশই ব্যবহার করুন। নতুন কিছুর এক্সপেরিমেন্ট করতে এখন যাবেন না। হিতে পুজোর আগে বিপরীত ফল হতে পারে।

সানস্ক্রিন অবশ্যই: একটা ব্যাপার অনেকেই অবহেলা করেন, তা হল সানস্ক্রিন। এখন বৃষ্টি পড়লেও সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া যাবে না। এমনকি বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে রান্নাজ্ঞহরে রান্না করার আগেও সানস্ক্রিন লাগানো জরুরি। তাছাড়া বৃষ্টির ফাঁকে রোদ উঠলে কিন্তু কাঠ ফাটা তাপ দিচ্ছে। তা ছাড়া পুজোর সময় দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাই বাইরে বেরোনোর আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে সানস্ক্রিন সঙ্গে নিয়ে বেরোন। মুখ টিস্যু দিয়ে মুছে বা সাধারণ জলে ধুয়ে প্রয়োজন মতো আবারও লাগান।

হালকা স্ক্রাবিং: মুখকে জেল্লাদার অল্প সময়ে করতে হলে ডেড স্কিন বা মৃতকোষ থেতে মুখের ত্বককে মুক্তি দিতে হবে। তার জন্য সব থেকে উপকারী ঘরোয়া স্ক্রাব। সেজন্য সপ্তাহে এক-দু’বার মৃদু স্ক্রাব ব্যবহার করা যেতে পারে। এই স্ক্রাব করার জন্য ওটসের মতো কোমল উপাদান ব্যবহার করুন। এর জন্য কিছুটা ওটসের সঙ্গে অল্প একটু মধু মিশিয়ে নিয়ে হালকা হাতে মুখ, গলা, ঘাড়, দুই হাত স্ক্রাব করে নিন, সব মিলিয়ে ৩ মিনিট। তবে বেশি ঘষাঘষি করবেন না। আপনার ত্বক সংবেদনশীল হলে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন।

ঘরোয়া ফেসপ্যাক: বেসন, টকদই বা গোলাপ জল দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক অনেকেই ব্যবহার করেন। তবে সব রকম ত্বকে সব ক’টি না-ও উপযুক্ত হতে পারে। এছাড়াও টকদই ও মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে ব্যবহ্র করলেও জেল্লা দ্রুত বাড়ে। পাকাকলার প্যাকও খুবই উপকারী। তবে ত্বকে বিশেষ কোনো সমস্যা থাকলে জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে দেবেন।

বিজ্ঞাপন

জল ও খাবারের দিকেও নজর: মনে রাখবেন বাইরে যা কিছুই করুন না কেন, ভেতর থেকে জেল্লা আনার জন্য পেটে খেতেও হবে উপযুক্ত খাবার। তাই সর্বপ্রথম পর্যাপ্ত জল খাওয়া খুব দরকারি। অতিরিক্ত তেল-মশলা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া পাড়লে বন্ধ করে দিন। তার বদলে শাকসব্জি, ফল, ডাল, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়।

পুজোর সাজেও থাকুক সতর্কতা

আগাম সাবধনতা হিসেবে বলে রাখা ভালো, এত খেটে আনা ত্বকের জেল্লা দ্গরে রাখতে পুজোর সময় প্যান্ডেল হপিংয়ে খুব ভারী চড়া মেকআপ না করে, বদলে হালকা, স্বাভাবিক ও আরামদায়ক মেকআপ বেছে নিতে পারেন।

যে কোনো সময়ই মেকআপ করলে, দিনের শেষে মেকআপ ভালো ভাবে তুলে মুখ পরিষ্কার করতেই হবে। তারপর পালা ময়েশ্চারাইজারের।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পুজোর ঠিক আগে নতুন কোনও প্রসাধনী বা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ অ্যালার্জি বা ব্রণ হলে উৎসবটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। যাই করবেন নিজের ত্বকের প্রকার বুঝে করবেন।

মূল কথা: পুজোর এক-দু’দিন আগে নয়, কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই নিয়মিত যত্ন নিলে ত্বককে প্রাকৃতিক ভাবেই সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখা সহজ হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *