অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ৩ হাজার টাকা কারা পাবেন এবং কারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন, তা নিয়ে বিস্তারিত জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, আবেদনপত্রের ঝাড়াই-বাছাই ও যাচাইয়ের কাজ এখন অন্তিম পর্যায়ে। আগামী ১৭ তারিখ থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার পোষিত কোনও সংস্থা, পঞ্চায়েত বা পুরসভা, সরকারি কিংবা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। একই ভাবে স্থায়ী সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।
– বিজ্ঞাপন –
তবে কোনও সংস্থায় কর্মরত ঠিকা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যেরা অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করতে পারবেন। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের ক্ষেত্রে অন্য কোনও প্রকল্প থেকে ৩ হাজার টাকার কম ভাতা পাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট নিয়মে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা মিলবে।
যেমন, কোনও উপভোক্তা যদি বিধবা ভাতা হিসেবে মাসে ১,৫০০ টাকা পান, সে ক্ষেত্রে তাঁকে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা দেওয়া হবে। অর্থাৎ দুটি ভাতা যোগ করে ৪,৫০০ টাকা দেওয়া হবে না। তবে এই নিয়মের ক্ষেত্রে দু’টি বিশেষ ছাড়ের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দিব্যাঙ্গ ভাতা পাওয়া উপভোক্তারা অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকার পাশাপাশি তাঁদের প্রাপ্য দিব্যাঙ্গ ভাতাও পাবেন। একই ভাবে পিএম কিসান নিধি যোজনার আওতায় থাকা কৃষকদের পরিবারের সদস্যেরাও অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
বাড়ির ক্ষেত্রেও নিয়মে কিছু পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে তিন কক্ষবিশিষ্ট বাড়ি থাকলে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছিল। তবে গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে সেই শর্ত শিথিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
যোগ্য উপভোক্তাদের টাকা পাওয়া নিয়ে কোনও উদ্বেগের কারণ নেই বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ১৭ তারিখ থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের টাকা দেওয়া শুরু হবে। আবেদনপত্রের যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর অর্থ দফতর জেলা ধরে ধরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করবে।
যাঁদের ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হয়ে যাবে, তাঁদের প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ, নিয়মিত যাচাইয়ের পর যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জুলাই মাসে এক কোটির বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের পরেই আবেদন ও উপভোক্তাদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রকল্পের সম্ভাব্য আর্থিক ব্যয় নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে হিসাব শুরু হয়েছে। আট মাসে অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে হিসাব করা হচ্ছে। প্রকল্প শুরুর আগে বাজেটে ৩৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জুন মাসে ২৮ লক্ষ মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হয়েছিল। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ১৯ লক্ষে পৌঁছেছে। আগামী কিস্তিতে উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অভিযোগ জানাতে একটি পৃথক অভিযোগ পোর্টাল চালুর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ব্যবস্থায় বিডিওদের দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং গোটা বিষয়টি মুখ্যসচিবের নজরদারিতে থাকবে।
এদিন পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় ৫০০ টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় ধরে যাচাই-বাছাই চলেছিল বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র যোগ্য ব্যক্তিদেরই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়া হবে। তাই আবেদনকারীদের অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
