দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় বদলের ইঙ্গিত। ₹১০ ও ₹২০ মূল্যের পলিমার ব্যাঙ্কনোটের ফিল্ড ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দিল কেন্দ্র। রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) কেন্দ্রীয় পর্ষদের সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্রের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ₹১০ এবং ₹২০—দুই মূল্যমানের ১০০ কোটি করে, মোট ২০০ কোটি পলিমার ব্যাঙ্কনোট পরীক্ষামূলক ভাবে বাজারে আনা হবে। ফিল্ড ট্রায়াল সফল হলে ভবিষ্যতে এই দুই মূল্যমানের পলিমার নোট নিয়মিত ভাবে ইস্যু করা হতে পারে।

– বিজ্ঞাপন –

তবে এখনই কাগজের নোট তুলে নেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। RBI-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, পলিমার নোট চালু হলেও তা কাগজের নোটের পাশাপাশি বাজারে থাকবে।

কবে হাতে আসবে নতুন নোট?

এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো সম্ভব নয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পলিমার নোট সংগ্রহের প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কবে থেকে সাধারণ মানুষের হাতে এই নোট পৌঁছবে এবং এর জন্য কত খরচ হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

কমেছে মূল্যস্ফীতি, তবে ফের ঊর্ধ্বমুখী

সংসদে দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়েও তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে গড় খুচরো মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫-এ তা কমে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬-এ আরও কমে ২.১ শতাংশ হয়েছে।

তবে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৩.৯ শতাংশ। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের জেরে পণ্য ও জ্বালানির আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি, সবজির মরসুমি দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য প্রতিকূল এল নিনোর প্রভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও মূল্যস্ফীতির এই হার এখনও RBI-এর ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নীচে।

বিজ্ঞাপন

GST ও করছাড়ে জোর

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, GST কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠকে কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। একাধিক পণ্যের ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ, ১৮ শতাংশ থেকে ১২ বা ৫ শতাংশ এবং ১২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ বা শূন্যে কর কমানো হয়েছে।

এ ছাড়া উৎপাদন খরচ কমানো, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং রফতানি প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পণ্যে Basic Customs Duty বা BCD-তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের হাতে বাড়তি অর্থ রাখার লক্ষ্যে বার্ষিক ₹১২ লক্ষ পর্যন্ত আয়কে আয়করমুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সুবিধা ধরলে এই সীমা ₹১২.৭৫ লক্ষ।

সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপগুলির ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং গৃহস্থালির খরচের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মাথাপিছু ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ের বৃদ্ধির হার ৬.৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৩-২৪-এর ৪.৮ শতাংশের তুলনায় বেশি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *