নয়াদিল্লি: NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রথমবার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রমাণ করে যে, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে পদ নয়, দেশের যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীরাই সর্বাগ্রে।
এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে অমিত শাহ লেখেন, “বিজেপি কর্মীদের কাছে দেশ, যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীরা যে কোনও পদ বা রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই আদর্শেরই প্রতিফলন।”
– বিজ্ঞাপন –
NEET উত্তীর্ণদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, NEET পরীক্ষায় সফল ছাত্রছাত্রীরা সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবেন।
অমিত শাহের বক্তব্য, “দেশের যুবসমাজের আবেগকে মোদী সরকার সম্মান করে। প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির যে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি নিশ্চিত, এই পদক্ষেপগুলির ফলে NEET-এ সফল ছাত্রছাত্রীরা সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবে।”
ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাজের প্রশংসা
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাজেরও প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, প্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) বাস্তবায়ন, PM SHRI Schools-এর সম্প্রসারণ, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, পরীক্ষায় মাতৃভাষার ব্যবহার বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, “উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে তাঁর নিষ্ঠা ও কাজের প্রমাণ তাঁর শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন।”
বিজ্ঞাপন
পদত্যাগের পর নতুন দায়িত্ব
NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভের মুখে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলন প্রত্যাহার
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই Cockroach Janata Party (CJP) দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলা তাদের অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে। সংগঠনের দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুলিশি মামলা প্রত্যাহার এবং NEET প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত আত্মহত্যার ঘটনাগুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সর্বোচ্চ সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এরপরই তারা আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
