ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য সরকারের তরফে তিনি সরাসরি কোনও বার্তা পাননি। যন্তর মন্তর বা কনস্টিটিউশন ক্লাবের মতো নিরপেক্ষ জায়গায় কথা বলতে রাজি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগে আলোচনা নয়, বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য সরকারের তরফ থেকে তিনি সরাসরি কোনও বার্তা পাননি। তিনি আরও বলেন, দল যন্তর মন্তর বা অন্য কোনও নিরপেক্ষ জায়গায় আলোচনায় বসতে রাজি আছে।

সৌরভ দাস ANI-কে বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন যে কোনও জায়গায় আলোচনা হতে পারে। আমরা তো আমাদের প্রস্তাব দিয়েই দিয়েছি। যন্তর মন্তরে আসুন বা কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার মতো নিরপেক্ষ জায়গায় আসুন। আমরা সেখানেই দেখা করব। এখনও পর্যন্ত ওনাদের তরফ থেকে কোনও বার্তা পাইনি।”

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগে আলোচনা নয়: সৌরভ দাস

সৌরভ দাস বলেন, আলোচনার জায়গা, সময় এবং মেয়াদ ঠিক করার জন্য সরকারের উচিত সরাসরি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে জড়িতদের কড়া শাস্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট তৈরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সৌরভ দাস এই ধরনের ঘোষণাকে “অকেজো” বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, এগুলো মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, “এইসব ঘোষণার কোনও মানে হয় না। এগুলো মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। আমরা দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্ব চাই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগে আমরা এই বিষয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা করব না।” তিনি আরও বলেছেন যন্তর মন্তরে আসুন বা কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার মতো কোনও নিরপেক্ষ জায়গায় তাঁরা আলোচনায় বসতে রাজি। তবে তাদের কাছে আলোচনার জন্য সরাসরি প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিতর্কের মধ্যে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেন। সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এত বড় একটা আন্দোলন চলছে, দেশের যুবসমাজ রাস্তায় বসে আছে, অথচ প্রধানমন্ত্রী সংসদে আসেননি। আর আপনারা আমাকে জিজ্ঞেস করছেন সংসদ কেন চলছে না?”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা

এদিকে, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিক্ষোভ তীব্র হওয়ার মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন যে, এই কাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে।

X-এ একটি পোস্টে মোদী জানান, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টায় যারা জড়িত, “তাদের ছাড়া হবে না”। তিনি আরও বলেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই! প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের ধারাবাহিক পদক্ষেপের এটি একটি অংশ। যারা আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের ছাড়া হবে না।”

কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একাধিকবার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জিতেন্দ্র সিং ANI-কে বলেন, সমাধান খুঁজে বের করার পথে সরকার “প্রেস্টিজ”-কে বাধা হতে দেবে না। তিনি বলেন, “গতকাল দুপুর থেকে সরকার চারবার তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আমাদের সমস্ত তরুণ বন্ধুদের জন্য এটি একটি স্থায়ী আমন্ত্রণ যে, সরকার আপনাদের সুবিধামতো, যে কোনও সময়ে সমস্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *