শোকের ছায়া গোটা এলাকায় Image Credit: TV9 Bangla

মুর্শিদাবাদ: জন্মদিনের চকলেট নিয়ে বন্ধুদের কাছে আর পৌঁছাতে পারলো না ইসারুল। শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার কর্ণসুবর্ণ স্টেশন সংলগ্ন গোবিন্দপুর রেলগেটে ঘটে যায় ভয়াবহ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গেটম্যানের গাফিলতির কারণে পুলকারে ধাক্কা ট্রেনের। মৃত্যু হয় পুলকারে থাকা চার পড়ুয়া ও এক সাইকেল আরোহীর। মৃত্যু হয় পুলকারে থাকা গোবিন্দপুরের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইসারুল রহমানের। 

বৃহস্পতিবারই ছিল ইসারুলের ৯ বছরের জন্মদিন। বৃহস্পতিবার রথযাত্রা উপলক্ষে ছুটি থাকার কারণে বন্ধুদের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তাই শুক্রবার জন্মদিনের চকলেট খাওয়াবে বন্ধুদের। বলেছিল মাকে। কথা মতো চকলেট নিয়ে স্কুলেও যাচ্ছিল। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই সব শেষ। 

চোখে জল নিয়েই ইসারুলের মা আজিজা খাতুন বলছেন, ছেলের জন্মদিনে ছুটি ছিল। সে কারণে ওর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়নি। বন্ধুদের জন্য আমাকে চকলেট কেন আনতে বলেছিল। সেই চকলেট এনেও দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই চকলেট নিয়ে আর আর স্কুলেই পৌঁছাতেই পারলো না।” 

ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ২৪ ঘণ্টা। শোকে পাথর গোটা গ্রাম। একসঙ্গে এতগুলো বাচ্চা যে সারা জীবনের জন্য ছেড়ে চলে যাবে তা ভাবতে পারছেন না কেউই। চোখে জল তামান্না, জামশেদের পরিবারের সদস্যদের চোখেও। স্কুলে যাওয়ার আগে মনে কু ডেকেছিল জেসিকা শবনমেরও। জেসিকার মা শেফালী খাতুন বলেন, “মেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে বলেছিল মা মনটা কেমন করছে, একটু জল দাও। জলও খাইয়ে দিয়াছিলাম। তার ঠিক মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই মাইকিংয়ে শুনতে পাই অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে সেই কথা শুনে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি আমার সব শেষ।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *