পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন বৃহস্পতিবার ১৯ দিনে পড়তেই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করলেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত। প্রায় ৫০০ কৃষককে নিয়ে তিনি দিল্লির যন্তর-মন্তরে পৌঁছে ওয়াংচুকের আন্দোলনে সংহতি জানান। এর ফলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে।
ওয়াংচুক বর্তমানে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকে আয়োজিত আন্দোলনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং CBSE-র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
– বিজ্ঞাপন –
কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক সমর্থন
এতদিন নীরব থাকার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়াল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থার ভেঙে পড়া এবং সরকারের জবাবদিহির অভাব নিয়ে ওয়াংচুকের ক্ষোভকে কংগ্রেস সমর্থন করে।
কংগ্রেস নেতা সচিন পাইলট-ও ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পরীক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
কেজরিওয়ালের বিস্ফোরক দাবি
বৃহস্পতিবার যন্তর-মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই দাবি করেননি, বরং তাঁর পরিবর্তে সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী করার আহ্বানও জানান।
কেজরিওয়ালের অভিযোগ, NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস, একের পর এক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং CBSE-র মূল্যায়ন ব্যবস্থার ত্রুটি সত্ত্বেও কেন্দ্র কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর দাবি, দেশের যুব সমাজের ক্ষোভকে সরকার উপেক্ষা করলে ২০২৯ সালের নির্বাচনে তার ফল ভুগতে হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও সমর্থন বিরোধী শিবিরের
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব-ও বৃহস্পতিবার যন্তর-মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন। এর আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
এছাড়া অভিনেতা প্রকাশ রাজ, স্বরা ভাস্কর এবং কৌতুকশিল্পী কুনাল কামরা-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিও আন্দোলনস্থলে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি
এদিকে চিকিৎসকদের মতে, টানা ১৯ দিনের অনশনে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চিকিৎসক ডা. সতীশ লাম্বা জানান, ইতিমধ্যেই তাঁর ওজন ৯ কেজিরও বেশি কমে বর্তমানে ৫৬.৯ কেজি হয়েছে।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওয়াংচুকের শরীরে দীর্ঘ অনাহারের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা এখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, অনশন চলতে থাকলে একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।
তবে এখনও পর্যন্ত ওয়াংচুক মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
