নিজস্ব সংবাদদাতা:
দেশজুড়ে ২০ শতাংশ ইথানল-যুক্ত পেট্রোল (E20) বাধ্যতামূলকভাবে চালুর পর ইঞ্জিনের ক্ষতি এবং মাইলেজ কমে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে IIT কানপুরের গবেষক এবং অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, E20 নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

মঙ্গলবার IIT কানপুরের গবেষকরা জানান, তাঁদের গবেষণায় E20 ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের ক্ষতির কোনও প্রমাণ মেলেনি। একই সঙ্গে জ্বালানি দক্ষতা (ফুয়েল এফিসিয়েন্সি) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ারও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

– বিজ্ঞাপন –

IIT কানপুরের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইঞ্জিন রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট ধ্রুব রাজ করানা জানান, E20 ব্যবহারে মাইলেজের হ্রাস ৫ শতাংশেরও কম। তাঁর মতে, এই সামান্য পার্থক্য অনেক সময় চালানোর ধরন, রাস্তার অবস্থা বা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের মতো অন্যান্য কারণেও হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ায় E20 নিয়ে যে সব দাবি ঘুরছে, তার অনেকগুলিই বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা মারুতি সুজুকিও জানিয়েছে, গত দুই বছরে E20-সার্টিফায়েড নয় এমন ১.৫ কোটিরও বেশি পুরনো গাড়ির সার্ভিসিং করা হয়েছে এবং জ্বালানি-সংক্রান্ত কোনও বড় সমস্যা চোখে পড়েনি। টয়োটা এবং হিরো মোটোকর্পও জানিয়েছে, পরীক্ষায় ধাতু বা প্লাস্টিকের ক্ষয়ক্ষতির উল্লেখযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।

অন্যদিকে, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দাবি করেছিলেন, পুরনো গাড়ির ইউজার ম্যানুয়াল এবং বর্তমানে গাড়ি নির্মাতাদের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞ ও Autocar India-এর সম্পাদক হরমাজদ সোরাবজি বলেন, পুরনো ম্যানুয়ালগুলি E20 চালুর আগেই লেখা হয়েছিল। সেই সময় E10-ই প্রচলিত ছিল। তাই ম্যানুয়ালে E20-এর উল্লেখ না থাকাই স্বাভাবিক।

তাঁর মতে, E10-অনুমোদিত গাড়িও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে E20 ব্যবহার করতে পারে। তবে গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন গাড়ি ব্যবহার না করলে ইথানলের আর্দ্রতা শোষণের প্রবণতার কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ব্যবহৃত এবং সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা গাড়িতে এমন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানিতে দূষণ (ফুয়েল কনটামিনেশন) নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, তা নতুন নয় বলেও জানান সোরাবজি। তাঁর মতে, দেশের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় দূষিত জ্বালানির সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু সেটিকে E20-এর সামগ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

এদিকে, গত সপ্তাহেই কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছিল, E20 ব্যবহারে কিছু গাড়িতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমতে পারে। তবে এর বদলে কার্বন নিঃসরণ কমে এবং পরিবেশগত সুবিধা বেশি পাওয়া যায়।

এই বিতর্কের মধ্যেই সোমবার কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকরি E20-এর পক্ষে সওয়াল করেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাধারণভাবে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে দেখানো তথ্য দেখে সঠিক মাইলেজ নির্ধারণ করা যায় না। তাঁর দাবি, কোম্পানির অনুমোদিত ডিলারের বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমেই প্রকৃত মাইলেজ পরীক্ষা করা সম্ভব।

তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন হরমাজদ সোরাবজি। তাঁর মতে, আধুনিক গাড়ির ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শিত মাইলেজের তথ্য সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট কার্যকর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *