ভারত: (স্মৃতি মন্ধানা ৮৩, হরমনপ্রীত কৌর ৫৮, দীপ্তি শর্মা ৫৭, সোফি একলেস্টোন ৩-৬৮, লরেন ফিলার ২-৪০) ও ৩৪১-৭ (যাস্তিকা ভাটিয়া ১১৩, স্মৃতি মন্ধানা ৭০, রিচা ঘোষ ৫০ নট আউট, সোফি একলেস্টোন ৫-১১৮)
ইংল্যান্ড: ১৭০ (অ্যামি জোনস ৫২, ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট ৪৪, ক্রান্তি গৌড ৫-৩৭) ও ১৮৬ (অ্যামি জোনস ৫৪, সোফি একলেস্টোন ৫০, স্নেহ রানা ৪-৪২, সায়ালি সাতঘরে ২০২৪)
– বিজ্ঞাপন –
খবর অনলাইন ডেস্ক: লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম মহিলা টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল ভারত। ম্যাচের চতুর্থ দিনে ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করে ইংল্যান্ড। মাত্র ৯৫ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে স্নেহ-সায়ালি-দীপ্তির বোলিং জাদু
৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। ভারতের হয়ে স্নেহ রানা চারটি উইকেট নেন, আর সায়ালি সাতঘরে ও দীপ্তি শর্মা তুলে নেন দুটি করে পূর্ণ উইকেট। এর আগে প্রথম ইনিংসেও ভারতীয় বোলারদের দাপটে ইংল্যান্ড মাত্র ১৭০ রান করতে পেরেছিল।
চতুর্থ দিনের শুরুতে ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ১৩০/৬। তখনও জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ৩২৭ রান। অ্যামি জোনস ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন এবং সোফি একলেস্টোন ছিলেন ১ রানে। তবে দিনের শুরুতেই ভারতের স্পিনাররা আঘাত হানেন।
ওভারনাইট স্কোরে মাত্র দুই রান যোগ করেই অ্যামি জোনস আউট হয়ে যান। স্নেহ রানার বলে মিডউইকেটে শেফালি বর্মার হাতে ক্যাচ দেন তিনি। এর পর ইংল্যান্ডের শেষ দিকের ব্যাটারদের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান সোফি একলেস্টোন। তিনি ৬১ বলে নিজের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রথম অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। স্নেহ রানার ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে রানার এটি ছিল চতুর্থ উইকেট এবং ম্যাচে মোট ষষ্ঠ শিকার।
ইংল্যান্ডের আরেক ব্যাটার ইসি ওয়ং ৩৩ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন। দীপ্তি শর্মার বলে তিনি বোল্ড হন। লরেন বেল চোটের মধ্যেও ব্যাট করতে নামলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দীপ্তির আরেকটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে তিনিও স্টাম্পড হন।
এর আগে ম্যাচের তৃতীয় দিনেই ইংল্যান্ড বড় ধাক্কা খেয়েছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করা হিদার নাইট এবং ট্যামি বিউমন্ট নিজেদের শেষ টেস্ট স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি। নাইট ১৩ রান করে আউট হন, আর বিউমন্ট গোল্ডেন ডাকের শিকার হন।

‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হলেন ক্রান্তি গৌড়। ন্যাট স্কিভার-ব্রান্টকে আউট করার পর। ছবি BCCI Women ‘X’ theke নেওয়া।
স্মৃতি-হরমনপ্রীত-দীপ্তির ব্যাটিং ও ক্রান্তির বোলিংয়ে ভারত শক্ত ভিতে
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারত ছিল সম্পূর্ণ আধিপত্যে। টসে জিতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ন্যাট স্কিভার-ব্রান্ট ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান। ভারতের প্রথম ইনিংসে স্মৃতি মন্ধানা ৮৩ রান করেন। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ৫৮ এবং দীপ্তি শর্মা ৫৭ রান যোগ করেন। ফলে ভারত ২৮৫ রানের শক্ত ভিত গড়ে।
এর পর বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন ক্রান্তি গৌড়। তিনি ৩৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে ১৭০ রানে গুটিয়ে দেন। প্রথম ইনিংসে ভারত ১১৫ রানের লিড পায়।
যাস্তিকার অনবদ্য সেঞ্চুরি, সঙ্গে দোসর স্মৃতি-রিচা
দ্বিতীয় ইনিংসে যাস্তিকা ভাটিয়ার অনবদ্য ১১৩ রান ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। তাঁর এই ইনিংসের সুবাদে লর্ডসের ব্যাটিং অনার্স বোর্ডে নাম ওঠে। স্মৃতি মন্ধানা আরও একটি অর্ধশতরান করে ৭০ রান করেন। রিচা ঘোষ অপরাজিত ৫০ রান যোগ করেন। ভারত ৭ উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।

সেঞ্চুরির পরে যাস্তিকা ভাটিয়া। ছবি BCCI Women ‘X’ theke নেওয়া।
ইংল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সোফি একলেস্টোন পাঁচ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন। তাঁর ১১৮ রানে ৫ উইকেটের বোলিংও লর্ডসের অনার্স বোর্ডে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু সেটি দলের পরাজয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
রানের ব্যবধানে ভারতের অন্যতম বড় জয়
ভারতের হয়ে এই ঐতিহাসিক জয়ে ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই একাধিক ক্রিকেটার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ক্রান্তি গৌড় ও সায়ালি সাতঘরে নতুন বলে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলেন। পরে স্নেহ রানা ও দীপ্তি শর্মার স্পিন জাদুতে ম্যাচের শেষ অধ্যায়ে সম্পূর্ণ দখল নেয় ভারত।
মহিলা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে রানের ব্যবধানে এটি ভারতের অন্যতম বড় জয় হিসেবে নথিভুক্ত হল। লর্ডসের মতো ঐতিহাসিক মঞ্চে এই সাফল্য ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
