কলকাতা: দেশের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে ফের স্বীকৃতি পেল কলকাতা। আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট পরামর্শদাতা সংস্থা নাইট ফ্র্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার প্রকাশিত ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬’-এ দেখা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে দেশের আটটি প্রধান শহরের মধ্যে কলকাতা দ্বিতীয় সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে উঠে এসেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতায় একজন গড় বাড়ি ক্রেতাকে গৃহঋণের ইএমআই বাবদ পরিবারের মোট আয়-এর মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। আবাসন ঋণের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশকে গ্রহণযোগ্য সীমা হিসেবে ধরা হয়। সেই নিরিখে কলকাতার অবস্থান অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।
– বিজ্ঞাপন –
এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে আহমেদাবাদ, যেখানে গৃহঋণের ইএমআই বাবদ আয়-এর ২৩ শতাংশ খরচ হয়। কলকাতার পর রয়েছে পুনে (২৮ শতাংশ) এবং চেন্নাই (২৯ শতাংশ)। বেঙ্গালুরুতে এই হার ৩৫ শতাংশ এবং হায়দরাবাদে ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজার হিসেবে রয়েছে দিল্লি-এনসিআর এবং মুম্বই, যেখানে ক্রেতাদের আয়-এর যথাক্রমে ৬৭ এবং ৬৯ শতাংশ গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে।
নাইট ফ্র্যাঙ্কের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০ বছরের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ এবং সম্পত্তির মূল্যের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাকে ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এতে গৃহঋণের সুদের হার, বিভিন্ন শহরের গড় ফ্ল্যাটের আয়তন এবং বিক্রি না হওয়া আবাসনের গড় মূল্যের তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত চার বছর ধরে কলকাতার আবাসন বাজারের সাশ্রয়যোগ্যতা প্রায় একই স্তরে রয়েছে। ২০২১ সাল থেকে এই সূচক ২৫ থেকে ২৬ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৬ শতাংশ থেকে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা সামান্য কমে ২৫ শতাংশে নেমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির দাম, আয় বৃদ্ধি এবং ঋণের খরচের মধ্যে ভারসাম্য থাকার ফলেই এই স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
ক্রেডাই কলকাতার সভাপতি অপূর্ব সালারপুরিয়ার মতে, দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় কলকাতায় আবাসন এবং অফিসের খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক ব্যয় যেমন কম হয়, তেমনই কর্মীরাও তুলনামূলক কম খরচে উন্নত মানের আবাসন সুবিধা পান।
বিজ্ঞাপন
তবে ক্রেডাই বেঙ্গলের সভাপতি সুশীল মোহতার বক্তব্য, জমি ও নির্মাণ খরচের আগে যদি কোনও প্রকল্পের মোট মূল্যের প্রায় ৩৫ শতাংশ সরকারি কর ও অন্যান্য খাতে চলে যায়, তাহলে ‘সাশ্রয়ী আবাসন’ অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নাইট ফ্র্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিশির বৈজল বলেন, “আবাসনের চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হল সাশ্রয়যোগ্যতা। সুদের হার কমার ইতিবাচক প্রভাব এখনও দেশের অধিকাংশ আবাসন বাজারে রয়েছে। তবে সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির কারণে সেই সুবিধা কিছুটা সীমিত হয়েছে। আগামী দিনে আয় বৃদ্ধি এবং বাজারের ভারসাম্য বজায় থাকাই আবাসন বাজারের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হবে।”
