প্রাক্তন শাসক শিবির থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরও ছাব্বিশের ভোটে দুই কেন্দ্র থেকে ভোটে জিতে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের দাপুটে ও বিতর্কিত নেতা হুমায়ুন কবীর। আর বিধায়ক হিসেবে জনসভা করেই বেলাগাম মন্তব্য আর হুঁশিয়ারিতে ফের নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন তিনি। শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুর এলাকার এক জনসভা থেকে হুমায়ুনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু, একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। এই আস্ফালনটা কমান। আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না।” তাঁর আরও চ্যালেঞ্জ, ‘‘কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে।”

বিধায়কের কথায়, ‘‘আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি, আপনারা জিতেছেন, ভালো। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কমান। নইলে আমি মুসলমানদের জড়ো করে যখন স্যাটাভাঙা মার শুরু করব, পালানোর রাস্তা থাকবে না। কেস দেবেন? ওরকম কেস আমাদের অনেক আছে। আমাদের সঙ্গে যদি বেশি পাঙ্গা নিতে যায়, আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার – এসব কিছু বুঝব না।”

আরও পড়ুন:

‘হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীর জলে মিশিয়ে দেব’ থেকে ‘স্যাটাভাঙা মার’, রাজ্য সরকার পরিবর্তন হলেও হুমায়ুন কবীরের ভাষার কোনও বদল ঘটেনি। প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক থাকাকালীন যতটা কুরুচিকর ভাষায় তিনি সাম্প্রদায়িক উসকানি দিতেন, বিজেপির আমলেও সেই একই বিতর্কের রেশ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ছাব্বিশের ভোটের আগে ঘনঘন এমন হিংসাত্মক মন্তব্যের কারণে হুমায়ুনকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়। তারপর তিনি নিজে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি খুলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কোটি টাকার বিনিময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। একটি অডিও ভাইরাল হয়। যদিও সেসব সমালোচনাকে ছাপিয়ে নওদা ও রেজিনগর – দুটি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জেতেন এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র জনপ্রতিনিধি হন। পরে অবশ্য রেজিনগর আসনটি তিনি ছেড়ে দেন ছেলের জন্য।

সেই রেজিনগরেই শুক্রবার জনসভা ছিল হুমায়ুনের। বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের উত্তেজক কথাবার্তা বলেন তিনি। বিধায়কের কথায়, ‘‘আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি, আপনারা জিতেছেন, ভালো। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কমান। নইলে আমি মুসলমানদের জড়ো করে যখন স্যাটাভাঙা মার শুরু করব, পালানোর রাস্তা থাকবে না। কেস দেবেন? ওরকম কেস আমাদের অনেক আছে। আমাদের সঙ্গে যদি বেশি পাঙ্গা নিতে যায়, আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার – এসব কিছু বুঝব না।আমরা রাজশক্তির বিরোধিতা করতে চাই না, সম্মান দিতে চাই। কিন্তু এখানে হেরেও যদি ওরা ঝামেলা বাঁধানোর চেষ্টা করে, তাহলে ছাড়ব না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দেব।” হুমায়ুনের এহেন হুঁশিয়ারি নিয়ে অবশ্য এখনও শাসক শিবিরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *