ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’ নিয়ে প্রশংসার স্রোত যেন থামছেই না। দর্শক-সমালোচকদের পাশাপাশি দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক নির্মাতা ও শিল্পীও সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এবার সিনেমাটি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ‘ঢাকা অ্যাটাক’খ্যাত নির্মাতা দীপংকর দীপন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে দীপন জানান, তিনি সাধারণত বাংলাদেশের কোনো সিনেমার রিভিউ লেখেন না। সহকর্মীদের প্রতি পেশাগত সৌজন্য থেকেই বিষয়টি এড়িয়ে চলেন। তবে ‘রইদ’ তাকে ব্যতিক্রম হতে বাধ্য করেছে। নিজের বক্তব্যে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন, যা তার ভাষায় শুধু এই সিনেমার জন্য নয়, পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যই প্রযোজ্য।

প্রথমেই তিনি নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন-এর কাজের প্রশংসা করে বলেন, অনেক নির্মাতা সিনেমা বানাতে গিয়ে নানা বিষয়কে প্রাধান্য দিলেও মূল সিনেমাটাই সবচেয়ে কম করেন। কিন্তু সুমন ঠিক তার উল্টো। তার ভাষায়, ‘সে যখন সিনেমা বানাতে চায়, তখন শুধু সিনেমাটাই করে- আর কিছু করে না। আর তার ফল হলো ‘রইদ’।’

অভিনেত্রী নাজিফা তুষি-র অভিনয় নিয়েও বিশেষভাবে মুগ্ধ দীপন। তিনি মনে করেন, একজন নায়িকার প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল পর্দায় আকর্ষণীয় দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং চরিত্রের সঙ্গে কতটা গভীরভাবে মিশে যেতে পারেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

‘রইদ’-এ তুষির অভিনয় এবং ‘সাদুর বউ’ চরিত্রে তার রূপান্তরকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন,“সাধারণত নায়িকারা যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করতে গেলেও নিজেদের গ্ল্যামার ধরে রাখতে চান, যে তাকে সুন্দর দেখাতেই হবে। এই মানসিকতার শিকার আমি নিজেও কাজ করতে গিয়ে হয়েছি। কিন্তু রইদ আর তুষির সাদুর বউ হয়ে উঠা প্রমাণ করেছে — চরিত্রের সঙ্গে যত বেশি মিশে যাবেন, নায়িকা হিসেবে আপনার গ্ল্যামার তত বেশি বাড়বে।”

পোস্টের শেষ অংশে সিনেমার নির্মাণদর্শন নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরেন দীপন। তার মতে, দর্শককে বিনোদন দেওয়ার জন্য গান, মারপিট, জাঁকজমকপূর্ণ লোকেশন বা অতিরিক্ত বাণিজ্যিক উপাদানের ওপর নির্ভর না করে, যদি একজন নির্মাতা গল্পের বস্তুনিষ্ঠতা ও সততাকে অগ্রাধিকার দেন, তাহলে সেই সিনেমাই দর্শকের কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

নিজের বক্তব্য শেষ করতে গিয়ে আত্মসমালোচনাও করেছেন এই নির্মাতা। তিনি লিখেছেন, এসব বিষয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক ও তারকা শিল্পীরা জানেন। কিন্তু তার মতো অনেকেই কখনো কখনো সেগুলো ভুলে যেতে চান কিংবা ভুলে যান।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *