তারাতলায় নির্মীয়মাণ তিনতলা গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩। এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে ১২ থেকে ১৫ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পরই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া সমস্ত নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক প্রকল্পের কাজ আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ওই সব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ঘোষণা করা হবে।
– বিজ্ঞাপন –
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে যে ভেঙে পড়া গুদামের নির্মাণ পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল। তিনি বলেন, “কেএমসির ইঞ্জিনিয়াররা আমাকে জানিয়েছেন, গুদামটির বিল্ডিং প্ল্যানে গলদ ছিল।”
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা পুর এলাকা জুড়ে তৃণমূল আমলে অনুমোদন পাওয়া সমস্ত নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। জলাশয় ভরাট করে তৈরি হওয়া প্রকল্পগুলিও এই অডিটের আওতায় আসবে। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নির্মাণকাজ স্থগিত থাকবে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একটি বিশেষ অডিট টিম গঠন করা হচ্ছে। তারা বিল্ডিং প্ল্যান, সাইট প্ল্যান এবং প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেবে। সব নিরাপত্তা বিধি ও নির্মাণ মানদণ্ড মেনে চলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
এই অডিটের দায়িত্বে থাকবে মুখ্যসচিবের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি। পিডব্লিউডি, সিভিল ডিফেন্স, দমকল, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত হবে বহুমুখী তদন্তকারী দল। পরবর্তী পর্যায়ে হাওড়া ও বিধাননগর পুর এলাকার নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলিতেও একই ধরনের অডিট চালানো হবে।
বিজ্ঞাপন
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কলকাতা মেট্রো এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষের (এসএমপিএ) লিজ দেওয়া জমিতে নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলিও অডিটের আওতায় আসবে। তবে হাসপাতাল, দমকল ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নির্মাণকাজ এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এসএমপিএ-র জমিতে বেহেরা ব্রাদার্সের অংশীদার শম্ভুনাথ বেহেরাকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি গুদামটির নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই বুধবার দুপুরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তিনতলা কাঠামোটি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিক ভাবে যা দেখেছি, তাতে ভারী বৃষ্টি বা মাটির গঠনের কারণে এই ধস হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। যদি তা-ই হত, তবে কাঠামোটি আগে বেঁকে যেত, সরাসরি ভেঙে পড়ত না।”
উদ্ধারকাজ এখনও জারি রয়েছে। দমকল, এনডিআরএফ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও সেখানে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন।
