রাজধানীর মৌচাকের ফরচুন শপিং মলের সম্পা জুয়েলার্সে ৫০০ ভরি স্বর্ণ চুরির মামলায় শাহিন মাতব্বর ওরফে শাহিন (৪৬) দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুবের আদালতে তিনি দায় স্বীকার করেন। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, শাহিন স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা বিভাগের লালবাগ জোনের উপপরিদর্শক কৃষ্ণ কুমার দাস। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অপর তিন আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে বিচারক শাহিন মাতব্বরের জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপরদিকে মামলার মূল সিডি না থাকায় অপর তিন জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য রবিবার (১৯ অক্টোবর) দিন ধার্য করেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন—নুরুল ইসলাম (৩৩), উত্তম চন্দ্র সূর (৪৯) ও অনিতা রায় (৩১)।

স্বর্ণ চুরির ঘটনায় গত ৯ অক্টোবর শম্পা জুয়েলার্সের মালিক অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে রমনা মডেল থানায় একটি চুরির মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ৮ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে মালিক অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস ও তার কর্মচারীরা বাসায় যান। পরদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মার্কেটের দারোয়ানের মাধ্যমে খবর পেয়ে এসে দেখেন দোকানে কোনও স্বর্ণালংকার নেই। তার দাবি, দোকানে ৫০০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল, এর মধ্যে ৪০০ ভরি দোকানের নিজস্ব স্বর্ণালংকার। আর ১০০ ভরি বন্ধকি স্বর্ণালংকার।

তদন্ত কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, প্রশিক্ষিত দুর্ধর্ষ চোর চক্রের দুজন বোরকা পরে রশি বেয়ে ফরচুন শপিং মলের তৃতীয় তলার জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর দোতলায় শম্পা জুয়েলার্সের কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শোকেসে রাখা স্বর্ণালংকার নেয়। চুরি শেষে ভবনের নিচে মোটরসাইকেলে অপেক্ষমাণ ব্যক্তির সঙ্গে তারা দ্রুত চলে যায়। চোর চক্রটি স্বর্ণালংকার কয়েক ভাগে ভাগ করে নেয়। কিন্তু ডিবির তৎপরতায় সেগুলো বিক্রি করার সুযোগ পায়নি। অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক চোরের বাড়ির উঠানের পাশের বড় খড়ের গাদা সরিয়ে মাটির নিচ থেকে একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছোট ছোট পুঁটলিতে স্বর্ণালংকার মোড়ানো ছিল। আসামি শাহিনের ফরিদপুরের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ১২১ দশমিক শূন্য সাত ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পলাতক আসামি শৈশব রায় ও তার স্ত্রী অনিতার বরিশালের বাসা থেকে ৫২ দশমিক ৮১ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। নুরুল ইসলামের নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে ২ ভরি স্বর্ণ, একটি মোটরসাইকেল ও ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *