ছবির উৎস, Serenity Strull/BBC
ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা, যেটাকে অনেকে পুরুষত্বহীনতাও বলেন- সেটা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। গবেষকদের মতে, এখন রোগী ও চিকিৎসক উভয়েরই এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসেছে।
এই সমস্যাকে একটি নীরব মহামারি হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে। একাধিক সমীক্ষা অনুসারে, ৪০ বছরের বেশি বয়সী অর্ধেকেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এতে আক্রান্ত।
তবে, খুব কম সংখ্যক মানুষই তাদের প্রিয়জনদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক।
যদি কথোপকথনে বিষয়টি উঠেও আসে, তাহলেও এটিকে আসন্ন অসুস্থতার প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হিসেবে না দেখে প্রায়শই ঠাট্টা-তামাশার বিষয় হিসেবে দেখা হয়।
অথচ, প্রচুর নতুন গবেষণার তথ্য বলছে, পুরুষাঙ্গ প্রায়শই একজন পুরুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি ব্যারোমিটার বা পরিমাপক হিসেবে কাজ করে এবং লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা অনেক গুরুতর রোগের পূর্বাভাস দেয়।
রোম টর ভারগাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্সোলজিস্ট বা যৌন বিশেষজ্ঞ এমানুয়েলে জানিনির মতে, এটি “আগাম সতর্কবার্তা” বা বিপদের পূর্বাভাস। তিনি সম্প্রতি এ নিয়ে প্রাপ্ত প্রমাণ পর্যালোচনা করে একটি বই সম্পাদনা করেছেন।
আগেও দেখা গেছে, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা আরো কার্যকরভাবে শনাক্ত করতে গিয়ে চিকিৎসকেরা পুরুষদের স্বাস্থ্যের জন্য কিছু গুরুতর ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করার আগেই চিহ্নিত করতে পারছিলেন।
কিন্তু নিজেদের যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে অনেক পুরুষের অনীহার কারণে তারা এই চমৎকার সুযোগগুলো হারাচ্ছেন।
এই অত্যন্ত সাধারণ অভিযোগটি সম্পর্কে আপনার যা জানা প্রয়োজন এবং কেন এটি আপনার জন্য সতর্ক সংকেত, তা এখানে তুলে ধরা হলো।
সমস্যার ব্যাপকতা
অন্যান্য অনেক শারীরিক অসুস্থতার মতোই, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যার সঠিক ব্যাপকতা নির্ভর করে আপনি এটিকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত ও পরিমাপ করছেন তার উপর।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এর ব্যাপকতা তিন শতাংশ থেকে ৭৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত – যা একটি বিশাল পরিসর।
কিন্তু সবচেয়ে বড় এবং সূক্ষ্ম সমীক্ষাগুলোর মধ্যে একটিতে বিস্তারিত প্রশ্ন করে প্রায় ১২০০ জনের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ নিয়মিতভাবে কোনো না কোনো মাত্রার পুরুষত্বহীনতায় ভোগেন, যা ৭০ বছর বয়সে বেড়ে ৬৭ শতাংশ হয়।
লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যায় ভোগা পুরুষদের করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫৯ শতাংশ বেশি এবং স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি ৩৪ শতাংশ বেশি ছিল।
অনেক দিক থেকেই, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা হলো লিঙ্গনালীর একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য বরাবর কর্পোরা ক্যাভারনোসা নামে স্পঞ্জের মতো দুটি কাঠামো থাকে, যা সাধারণত শিথিল থাকে। যখন একজন পুরুষ উত্তেজিত হন, তখন মস্তিষ্ক পুরুষাঙ্গের ধমনীর চারপাশের পেশীগুলোকে শিথিল করার জন্য সংকেত পাঠায়, যার ফলে ওই দুটি সিলিন্ডারের মধ্যে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
কর্পোরা ক্যাভারনোসা প্রসারিত হতে শুরু করে এবং পুরুষাঙ্গের বাইরে রক্ত বহনকারী শিরাগুলোকে সংকুচিত করে রক্তকে ভেতরে আটকে ফেলে।
বাতাসে ভরা বেলুনের মতো, অঙ্গটি প্রসারিত ও শক্ত হয়ে যায়। তবে পুরুষাঙ্গের নালীপথে রক্ত চলাচল কমে যায়, এমন যেকোনো কিছুই একজন পুরুষের পুরুষাঙ্গ শক্ত করতে পারা বা এই অবস্থা বজায় রাখার ক্ষমতাকে ব্যাহত করবে।
সমস্যাটি প্রায়শই মনস্তাত্ত্বিক। অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল হরমোনের সঙ্গের জড়িত মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করতে পারে, যা কর্পোরা ক্যাভারনোসাকে শক্ত হতে বাধা দেয়।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ টেস্টোস্টেরন উৎপাদনেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয় এবং উত্তেজনা হ্রাস করে।
হাইপোগোনাডিজমের মতো গ্রন্থিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের টেস্টোস্টেরন উৎপাদনও কমে যায়, তাই এটিও একটি ভূমিকা রাখতে পারে।
তাছাড়া, মানসিক চাপের সাথে প্রায়শই এক ধরনের বিক্ষিপ্ত মানসিক অবস্থা তৈরি হয়, যা যৌনতার প্রতি মনোনিবেশ করা কঠিন করে তুলতে পারে।
মানসিক চাপ যদি যৌন উত্তেজনা থামিয়ে দেয়, তবে তা বিপদের মুহূর্তে টিকে থাকার জন্য শরীরকে তার শক্তি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে। জানিনি বলেন, “পরিবেশ যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে প্রজনন না করাটাকেই গুরুত্ব দিতে হয়”।
আধুনিক বিশ্বে, অনেক কারণেই আমরা মানসিক চাপে ভুগি, তাই এই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাটি প্রয়োজনের চেয়ে বেশিবার সক্রিয় হতে পারে।
ছবির উৎস, Serenity Strull/BBC
হার্ট ও ব্রেনের সমস্যা
অনেক ক্ষেত্রে, পুরুষাঙ্গ শক্ত না হওয়া বা লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা আরও ব্যাপক স্বাস্থ্য সমস্যারও প্রতিফলন হতে পারে।
যেমন, এটি অ্যাথেরোসক্লেরোসিস থেকে হতে পারে – যেটা এমন একটা অবস্থা যেখানে রক্তনালীগুলো শক্ত ও সরু হয়ে যায়, যা হৃদরোগের বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
যেহেতু লিঙ্গের ধমনীগুলো শরীরের সবচেয়ে ছোট ধমনীগুলোর মধ্যে অন্যতম, তাই এগুলোই প্রথমে অকার্যকর হয়ে পড়ে। সুতরাং, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা হার্ট ফেইলিউরের পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করতে পারে।
দেড় লাখেরও বেশি ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে, এমন একটি সাম্প্রতিক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যায় ভোগা পুরুষদের ধমনী সংক্রান্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৫৯ শতাংশ বেশি এবং স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা ৩৪ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রজনন বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ মাইকেল ক্যারল বলেন, “রক্তনালীর স্বাস্থ্যের একটি ভালো পরিমাপ হলো একটি ভালো লিঙ্গোত্থান”।
এ বিষয়ে তার লেখা বই ‘ইয়োর নাটস: দ্য সায়েন্স অফ হাও দে ওয়ার্ক অ্যান্ড হোয়াট ইট মিনস ফর ইয়োর ফার্টিলিটি’ এই গ্রীষ্মে প্রকাশিত হতে চলেছে।
তাইওয়ানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষের লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা (ইরেকটাইল ডিসফাংশন) ধরা পড়েছিল, সাত বছরব্যাপী পর্যবেক্ষণে তাদের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৬৮ শতাংশ বেশি ছিল।
লিঙ্গের মতোই, আমাদের মস্তিষ্কও শক্তি যোগাতে এবং বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণ করতে ভালো রক্ত সরবরাহের উপর নির্ভরশীল।
ডায়াবেটিস সম্পৃক্ততা
ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা (ইরেকটাইল ডিসফাংশন) পর্যবেক্ষণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ ডায়াবেটিস বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তসংবহন এবং স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া – যা প্রায়শই এই রোগটি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ঘটে থাকে – রক্তনালীর প্রাচীরের প্রোটিনের সাথে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে আটকে দিতে পারে। এর ফলে রক্তনালীগুলো তাদের স্থিতিস্থাপকতা হারাতে পারে – এই প্রক্রিয়াটিকে গ্লাইকেশন বলা হয়।
অ্যাথেরোসক্লেরোসিস বা ধমনীর রোগের মতোই, এটি শরীরের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশে রক্তের কার্যকর প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এবং লিঙ্গের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্পেনের বার্সেলোনার সান্ত পাউ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক বোগদান ভ্লাচো বলেন, “ডায়াবেটিস আর লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক খুবই জোরালো”।
“ডায়াবেটিস নেই এমন পুরুষদের তুলনায় টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষদের লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা প্রায় তিনগুণ বেশি”।
সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় ভ্লাচো আরও দেখেছেন যে শুধু ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের তুলনায় ডায়াবেটিস ও ইরেক্টাইল ডিসফাংশন উভয়ই রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’ অর্থাৎ হাত ও পায়ের স্নায়ুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।
তাদের রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকিও বেশি, যা থেকে অন্ধত্ব হতে পারে এবং ক্ষত নিরাময়ে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়, যা কখনও কখনও অঙ্গচ্ছেদের কারণ হতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন শনাক্তের চেষ্টা করা এখনো প্রচলিত কোনো পদ্ধতি নয়।
স্পেনের বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হরমোন বিশেষজ্ঞ সান্তিয়াগো মার্টিনেজ, যিনি গবেষণা পর্যালোচনাটির সহ-লেখক, তিনি বলেন, “এমন প্রমাণ রয়েছে যে স্বাস্থ্যকর্মীরাও রোগীদের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন না”।
ছবির উৎস, Serenity Strull/BBC
সম্ভাব্য থেরাপি
যুক্তরাজ্যের ইউরোলজি ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যায় ভোগা অর্ধেকেরও বেশি পুরুষ এই অবস্থাকে ঘিরে থাকা লজ্জা ও উদ্বেগের কারণে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।
বিব্রত হওয়ার বিষয়টি বোঝাতে উত্তরদাতাদের ২০ শতাংশ এমনকি এটাও বলেছেন যে তাদের এই অস্বস্তি নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার চেয়ে তারা বরং এক মাস বিয়ার পান করা থেকেও বিরত থাকতেও রাজি।
কিন্তু মাইকেল ক্যারলের মতে, “লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যায় ভোগা সকল পুরুষেরই সাহায্য চাওয়া উচিত। এর মাধ্যমে আপনি একদিকে যেমন হতাশা ও মানসিক চাপের একটি বড় উৎস থেকে মুক্তি পেতে পারেন; তেমনই অন্যদিকে, আপনার সার্বিক শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি মূল্যবান আলোচনাও শুরু করতে পারেন – যা জীবন রক্ষাকারীও হতে পারে”।
তিনি যোগ করেন, “সমস্যাটি শুরুতে সমাধান করাটাই মূল বিষয়”।
সর্বোপরি, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যা অনিরাময়যোগ্য অবস্থা নয়।
ভায়াগ্রার (সিলডেনাফিল) মতো ওষুধ লিঙ্গের রক্তনালীকে প্রসারিত করে – কিন্তু কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায় যে যেসব রোগী তাদের যৌনজীবন উন্নত করার জন্য এগুলো সেবন করেছেন, তাদের হৃদরোগের অবস্থাও উন্নত হয়েছে, যার মধ্যে হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি হ্রাসও অন্তর্ভুক্ত – যদিও এটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রমাণিত হয়নি।
গবেষকরা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াটি লক্ষ্য করার আগে, ভায়াগ্রা মূলত উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
প্রায় নয় লাখ রোগীর উপর পরিচালিত একটি গবেষণা অনুসারে, এই ওষুধগুলো ডিমেনশিয়া হওয়ার আশঙ্কাও কমাতে পারে এবং দেখা গেছে যে এটি আলঝেইমার রোগের ঝুঁকিও দ্বিগুণ হ্রাস করে।
আপনি যদি ইরেকটাইল ডিসফাংশনের বিষয়টি ডাক্তারের কাছে তুলে ধরেন, তবে তিনি আপনাকে হৃদরোগের সাধারণ ঝুঁকির কারণ, যেমন উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যাথেরোসক্লেরোসিস, পরীক্ষা করে দেখতে পারেন এবং স্থূলতার মতো বিষয়গুলোতে পরামর্শ দিতে পারেন।
কিছু ক্ষেত্রে, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং ব্যায়ামের মতো সাধারণ পদক্ষেপও সহায়ক হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য হবে।
তবে মার্টিনেজ ও ভ্লাচো জোর দিয়ে বলেন যে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের জন্য এই থেরাপিগুলোর প্রভাব এবং এগুলো অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকিও কমাতে পারে কি না, সে বিষয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়াও, লিঙ্গোত্থানজনিত সমস্যার কারণগুলো আলাদা করতে বেশ পরিশ্রম দরকার হতে পারে; কারণ এটি পর্ন আসক্তির মতো অভ্যাস এবং যৌন আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে থাকা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকেও উদ্ভূত হতে পারে।
ক্যারল বলেন, “যদি কোনো পুরুষের ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ থাকে, তবে সাধারণত কারণটি খুঁজে বের করা এবং তার চিকিৎসা করা সহজ হয়। তবে, যদি মদ্যপান ও ধূমপানের মতো জীবনযাত্রার কারণগুলোর সাথে পর্নোগ্রাফির অতিরিক্ত ব্যবহারের মতো মনস্তাত্ত্বিক বা আচরণগত দিকগুলোও যুক্ত থাকলে এর সমাধান করা কঠিন হতে পারে। প্রায়শই এই পুরুষেরা তাদের এসব কার্যকলাপের কথা প্রকাশ করতে চান না”।
হারিয়ে যাওয়া হাড়
স্বাস্থ্যসেবার জন্য এই আবিষ্কারগুলোর সুস্পষ্ট গুরুত্ব ছাড়াও, জানিনি এই সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও চিন্তা করছেন যে পুরুষাঙ্গ কীভাবে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে কাজ করে।
একটি প্রজাতি হিসেবে, দৃঢ় পুরুষাঙ্গ অর্জনের জন্য রক্তপ্রবাহের উপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে মানুষ বেশ ব্যতিক্রমী। আমাদের নিকটতম প্রজাতি শিম্পাঞ্জিসহ বেশিরভাগ প্রাইমেটের ব্যাকুলাম নামক একটি সংকোচনযোগ্য হাড় থাকে, যা যৌন উত্তেজনার সময় তাদের লিঙ্গোত্থানকে সমর্থন করতে এবং রক্তসংবহনতন্ত্রকে সক্রিয় ও শক্ত রাখতে বেরিয়ে আসে।
তবে তাদের যৌনজীবন একজন সাধারণ পুরুষ মানুষের মতো তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সাথে ততটা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত নয়।
তাহলে, পুরুষ মানুষ কেন ব্যাকুলাম হারিয়ে বিবর্তিত হবে এবং যৌন অক্ষমতা ও দুর্বলতার ঝুঁকিতে থাকবে? বিষয়টি অনেক জীববিজ্ঞানীকে ধাঁধায় ফেলেছে।
তবে, জানিনি মনে করেন যে পুরুষ মানুষেরা তাদের পুরুষাঙ্গের হাড় হারানোর জন্যই বিবর্তিত হয়েছিল, যাতে নারীরা শনাক্ত করতে পারেন যে কারা সবচেয়ে উপযুক্ত সঙ্গী হবে এবং কারা তাদের সন্তানদের মধ্যে সেরা জিনগুলো সঞ্চারিত করবে।
“এটা খুবই অদ্ভুত যে আমরা প্রজননের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাড়টি হারিয়ে ফেলেছি, কারণ আমাদের প্রতিক্রিয়া এতটাই অনিশ্চিত, অর্থাৎ আগে থেকে অনুমান করা যায় না,” জানিনি বলেন।
“কিন্তু এর মানে হলো, দীর্ঘস্থায়ী রোগের উপস্থিতি পরিমাপ করার জন্য এটি একটি নিখুঁত বায়োমার্কার বা সূচক”।
ডেভিড রবসন একজন পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক। তার সর্বশেষ বই, ‘দ্য ল অফ কানেকশন: থার্টিন সোশ্যাল স্ট্র্যাটেজিস দ্যাট উইল ট্রান্সফর্ম ইয়োর লাইফ’, জুন ২০২৪-এ ক্যাননগেট (যুক্তরাজ্য) ও পেগাসাস বুকস (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস-এ @davidarobson নামে পরিচিত এবং সাবস্ট্যাক-এ ‘সিক্সটি-সেকেন্ড সাইকোলজি’ নিউজলেটারটি লেখেন।
