কলকাতা: গ্রেফতার বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)। সোমবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, সব্যসাচীর (Sabyasachi Dutta Arrested) বিরুদ্ধে তোলবাজির অভিযোগ রয়েছে। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ী থানায় এফআইআর দায়ের করেন। সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করে পুলিশ। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে বারাসত থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন সব্যসাচী। এর আগে তিনি রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন। বিধাননগর পুরসভার মেয়রও ছিলেন সব্যসাচী।

সব্যসাচীর বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ?

পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার বিকেলেই ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে বিধাননগর উত্তর থানায় এফআইআর করেন মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ী। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার তোলবাজির অভিযোগ করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে মধুসূদন চক্রবর্তীর কাছ থেকে এক কোটি টাকা তোলা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তোলাবাজি ছাড়াও মানসিকভাবে নির্যাতন, খুনের হুমকির অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

গভীর রাতে আটকের পর গ্রেফতার

সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সোমবার রাতে নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে প্রথমে সব্যসাচীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের শেষে কোন সদুত্তর না মেলায় গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে। যদিও এই বিষয়ে বিধাননগর উত্তর থানা পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। শুধু ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ নয়, দলের মধ্যেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। দলীয় কর্মীদের হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছিল বিভিন্ন সময়। জানা গিয়েছে, মধুসূদন চক্রবর্তী এর আগেও একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। কিন্তু, পালাবদল হতেই সেই পুলিশই এবার সক্রিয়। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। তারপর থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছে পুলিশ। একের পর এক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলর গ্রেফতার হচ্ছেন। এবার সেই তালিকায় জুড়ল সব্যসাচীর নামও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *