জাহ্নবী কাপুর (Janhvi Kapoor) অভিনীত নতুন ছবি ‘পেড্ডি’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। অনেকেরই মতে ছবিতে শ্রীদেবী-কন্যাকে কেবলই মাত্রাতিরিক্ত যৌনতার মোড়কে পর্দায় পেশ করা হয়েছে। এই বিষয় নিয়ে সমাজমাধ্যম জুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। অনুরাগীদের একাংশ যখন জাহ্নবীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন, ঠিক তখনই নেটপাড়ায় ফাঁস হয়ে গিয়েছে এক অনুরাগীর সঙ্গে অভিনেত্রীর কথোপকথনের কিছু বিস্ফোরক স্ক্রিনশট। আর সেই চর্চার আগুনেই ঘি ঢেলে এবার প্রকাশ্যেই পরিচালকের বিরুদ্ধে সরব হলেন জাহ্নবীর ব্যক্তিগত রূপটানশিল্পী বা মেকআপ আর্টিস্ট সাভলিন কৌর মাঞ্চান্দা।
ফাঁস হওয়া স্ক্রিনশট অনুযায়ী, পর্দায় নিজের এমন কুরুচিকর চিত্রায়ণ নিয়ে জাহ্নভি নিজে যে বিন্দুমাত্র খুশি ছিলেন না, তা একদম পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। চ্যাটের এক জায়গায় অভিনেত্রী লিখেছেন, “আমি শুটিংয়ের সময়ই স্পষ্ট বলে দিয়েছিলাম, আমার স্তন এবং কোমরের শট যেন আলাদা করে জুম করে নেওয়া না হয়।” এই বিষয়ে ছবির নায়ক রাম চরণও যে অভিনেত্রীকে পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন, সেই তথ্যও উঠে এসেছে। জাহ্নবীর দাবি, “রাম স্যর খুবই ভালো মানুষ। তিনি আমার কথা শুনে স্বয়ং চিত্রগ্রাহককে কড়া ভাষায় এমন শট নিতে নিষেধ করেছিলেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনিও বেশ অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।”
তবে রাম চরণের আপত্তি সত্ত্বেও ছবি থেকে কেন শেষ পর্যন্ত ওই দৃশ্যগুলো বাদ গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অতীতে ‘গেম চেঞ্জার’ ছবিতে কিয়ারা আদবানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে জাহ্নবীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি আক্ষেপের সুরে জানান, দক্ষিণের বাণিজ্যিক ছবিতে দীর্ঘদিন ধরে এই ধারা বা প্রবণতাই চলে আসছে।
‘সব জেনেও কেন রাখা হল দৃশ্য?’
এদিকে পর্দায় এমন দৃশ্যের জন্য দর্শক যখন জাহ্নবীকে দোষারোপ করছেন, তখন তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মেকআপ আর্টিস্ট সাভলিন কৌর মাঞ্চান্দা। তিনি সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “বাইরে থেকে একজন অভিনেত্রীকে দোষ দেওয়া খুব সহজ। কিন্তু পর্দার পেছনে আসল গল্পটা সম্পূর্ণ আলাদা।”
সাভলিনের দাবি, শুধু শুটিংয়ের সময়ই নয়, পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলার সময়েও ছবির বেশ কিছু দৃশ্য নিয়ে জোরালো আপত্তি তুলেছিলেন জাহ্নভি। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, কেন সবসময় একটি নারী চরিত্রকে যৌনতার মোড়কেই বন্দি করা হবে? পেশাদার হিসেবে জাহ্নবী নিজের কাজের একটা স্পষ্ট সীমানা টেনে দিলেও, ফাইনাল এডিটের সময় অভিনেত্রীর সেই আপত্তির তোয়াক্কাই করা হয়নি। পরিচালকের কাছে জাহ্নবীর ‘কনসেন্ট’ বা সম্মতির চেয়ে বক্স অফিসের অঙ্কের লোভটাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল বলে জানিয়েছেন মেকআপ আর্টিস্ট। একের পর এক এই নতুন তথ্য সামনে আসার পর ডিজিটাল দুনিয়ায় নেটিজেনদের ক্ষোভ এখন সরাসরি ছবির নির্মাতাদের দিকেই ঘুরে গিয়েছে।
