
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা নিয়ে দেশ রূপান্তর আজ তাদের প্রধান সংবাদ করেছে, যেটির শিরোনাম— স্বাক্ষরে দ্বিধা জামায়াত এনসিপির। ঢাকার অন্যান্য পত্রিকাগুলোও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে কি না এ নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে একাধিক কারণ দেখিয়ে সনদে স্বাক্ষর করবে না বলে জানায় দল দুইটি।
এ ধরনের নেতিবাচক খবর ছড়ালে ঐকমত্য কমিশন দলগুলোর সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠক ডাকে।
সেখানে দল দুইটি স্বাক্ষরের বিষয়টি স্পষ্ট করেনি, অন্যদিকে বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে তারা সই করতে প্রস্তুত।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জামায়াত সনদে স্বাক্ষর করতে পারে। এনসিপিও শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরে রাজি হবে।
তবে, বেশ কয়েকটি বামপন্থী দল এতে সই করবে না। দলগুলো হচ্ছে সিপিবি, বাসদ, বাসদ মার্ক্সবাদী, জাসদ ও গণফোরাম।
সনদে থাকা সূচনা বক্তব্য, চার মূলনীতি ও অঙ্গীকারনামাসহ একাধিক সংস্কারে আপত্তি তুলে ধরে সই করবে না বলে জানিয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে মতভিন্নতা এখনো কাটেনি— প্রথম আলোর প্রধান খবর এটি।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে মতভিন্নতার কারণে জুলাই জাতীয় সনদে সব রাজনৈতিক দল সই করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে হুট করে ‘অতি জরুরি’ বৈঠক করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বৈঠকে সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আগের অনড় অবস্থানই তুলে ধরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
যদিও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে বলেছেন, আগামীকাল শুক্রবারই জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর হবে।
ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন হওয়ার কথাও তিনি বলেছেন।
মূলত, সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করার বিষয়ে দলগুলো একমত হলেও এর সময় ও পথ-পদ্ধতি নিয়েই মতভিন্নতা।
এ বিষয়ে কমিশন এখনও তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেনি।
কোনও কোনও দল সনদে সই করার আগে বাস্তবায়ন পদ্ধতির নিশ্চয়তা চায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে ঐকমত্য কমিশন মনে করছে, যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে।
তারা আশা করছে, সব দল সই করবে। যদিও স্বাক্ষরের পর সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায়ও এখন গ্রামাঞ্চলের মতো সাপের আনাগোনা। এমনকি নগরীর অভিজাত এলাকাগুলোতেও সাপের দেখা মিলছে।
গত তিন মাসে এই শহরে অন্তত ৩২২টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩১৯টিই বিষধর।
উদ্ধার হওয়া সাপগুলোর মধ্যে রয়েছে ভয়ংকর বিষধর খৈয়া গোখরা (ইন্ডিয়ান কোবরা), পদ্মগোখরা বা মনোকেল্ড কোবরা, ওয়ানস ক্রেট ও রাসেল ভাইপার।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ উদ্ধার হয়েছে মোহাম্মদপুর, বছিলা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, উত্তরা, বনশ্রী ও আফতাবনগর থেকে।
এখন পর্যন্ত সাপের দংশনে মিরপুরে একটি বাসার তিন তলায় একজন নারী আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেছেন, ঢাকায় আমরা যেসব সাপ উদ্ধার করেছি, তার বেশিরভাগই পদ্মগোখরা বা মনোকেল্ড কোবরা। এদের পানিপ্রীতি আছে। আগে যেসব জায়গায় জলাশয় ছিল এখন সেখানে ভবন আর রাস্তা। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গর্ত ও জলাধার ভরে গেলে সাপ শুকনো জায়গা খুঁজে মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে।
সংগঠনটির রেসকিউ টিম কিছু সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা; ঘাস-ঝোপ কাটা; উচ্ছিষ্ট খাবার যত্রতত্র না ফেলা; বাথরুম, স্টোররুম বা রান্নাঘরের নিচে অন্ধকার ও ভেজা জায়গায় নজর দেয়া; সাপ দেখা গেলে নিজে কিছু না করে রেসকিউ টিমে খবর দেয়া।
প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, সাপ প্রকৃতির খাদ্যচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইঁদুর ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন করে কৃষি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করে তারা। কিন্তু নগরায়ণের কারণে বন, ঝোপঝাড়, জলাশয় হারিয়ে তাদের প্রাকৃতিক আশ্রয় কমে যাচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, অবৈধ পথে সমুদ্রযোগে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেয়া একটি নৌকা নিখোঁজ হওয়ার ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এর হদিস মেলেনি। যেখানে ছিলেন হবিগঞ্জের ৩৫ তরুণ।
তাতে নিখোঁজদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
নিখোঁজ যুবকদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে চারটি নৌকা ইতালির উদ্দেশে ভূমধ্যসাগরে পাড়ি জমায়।
এরমধ্যে তিনটি নৌকা ইতালিতে পৌঁছালেও একটি নৌকা এখনও নিখোঁজ রয়েছে। ওই নৌকাতেই ছিলেন হবিগঞ্জের অন্তত ৩৫ তরুণসহ প্রায় ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।
নিখোঁজ আলফাজ মিয়া রনির বড় ভাই মনির মিয়া জানান, আজমিরীগঞ্জের পশ্চিমভাগ গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী হাসান আশরাফের মাধ্যমে ওই যুবকেরা ১৭-২০ লাখ টাকা করে দিয়ে ইতালি যাওয়ার উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে লিবিয়ায় অবস্থানকারী দালাল হাসান আশরাফ বলেছেন, ‘অনেক সময় ইতালিয়ান সীমান্তরক্ষীদের হাতে আটক হলে তাদের খোঁজ পেতে ১০-১৫ দিন লেগে যায়। কখনও ২০ দিন পরও খবর পাওয়া যায়। যদি লিবিয়া বা তিউনিসিয়ায় আটক হতো, তাহলে খবর পাওয়া যেত। এমনকি মৃত্যু হলেও লাশ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যেত।’
হাসান আশরাফ দাবি করেন, তিনি এতদিনে তিন হাজারের বেশি মানুষকে ওই পথে ইতালি পাঠিয়েছেন, কারও কোনও সমস্যা হয়নি।

গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুইটি মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছে।
এ নিয়ে গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেছেন, বাংলাদেশের পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়া জবাবদিহির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত— যোগ করেন তিনি।
বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ডজনের বেশি কর্মকর্তাকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
ফলকার তুর্কের মতে, বিচারপ্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য এসব আটক কর্মকর্তাকে দ্রুত একটি স্বাধীন ও যথাযথ বেসামরিক আদালতে হাজির করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনে নিশ্চয়তাকৃত ন্যায়বিচার এবং ন্যায্য বিচারের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি ।
ফলকার তুর্ক বলেছেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এবং পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া প্রতিটি মামলার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা অন্যায়ভাবে আটক রয়েছেন, তাদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।

যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর— দিলীপ আগরওয়ালা গোপনে কারামুক্ত।
এতে বলা হয়েছে, অনেকটা গোপনে কারাগার থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বিতর্কিত স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী ও ধনকুবের দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।
জুলাইয়ের ঘটনায় হত্যাসহ একাধিক মামলায় আদালত জামিন দিলে এর পরপরই দ্রুত তার জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়। একপর্যায়ে কঠোর গোপনীয়তায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা হিবেবে পরিচিত এই ব্যবসায়ীর এমন আকস্মিক কারামুক্তি নিয়ে আদালত অঙ্গনে তোলপাড় চলছে।
আইনজীবীদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যক্ষ সহায়তা ছাড়া তার এভাবে কারামুক্তি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ বর্তমানে যে কোনো বন্দি মুক্তির ক্ষেত্রে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার ক্লিয়ারেন্স লাগে।
এছাড়া পুলিশসহ আরও কয়েকটি সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের কাছে ধরনা দিতে হয়।
সূত্র জানায়, কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পরই গা ঢাকা দিয়েছেন দিলীপ। বর্তমানে তার কোনো হদিস মিলছে না।
তিনি সীমান্ত পার হয়ে ওপারে চলে গেছেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে।
এই খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র কন্টিনজেন্টকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
১৮০ সদস্যের এই কন্টিনজেন্টের মধ্যে ৭০ জন নারী পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা আগামী নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আসবেন।
জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনগুলোয় অর্থসংকটের কারণে সদস্য সংখ্যা কমানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এমন সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের পুলিশের দীর্ঘদিনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাত্র দুই মাস আগে এই কন্টিনজেন্টের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের একমাত্র সর্ব-মহিলা পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যাদের পুরো কন্টিনজেন্ট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
২০০৫ সাল থেকে কঙ্গোতে বাংলাদেশ পুলিশের নারী এফপিইউ ইউনিট দায়িত্ব পালন করছে।

এতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে স্থানীয়দের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন সুবিধা দিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) নির্মিত আবাসন ফ্ল্যাটগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে বাণিজ্যিক কাজে।
নিজেরা বসবাস না করে পর্যটকদের জন্য সেগুলো উচ্চমূল্যে ভাড়া দিচ্ছেন বরাদ্দপ্রাপ্তরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাগৃকের ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দপ্রাপ্তদের থেকে হোটেল ব্যবসায়ীরা লিজ নিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
এসব ফ্ল্যাটে একেক রাতের জন্য পর্যটকদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষকে নিরাপদ ও টেকসই আবাসন সুবিধা দিতে ২০২০ সালে সংস্থাটি নির্মাণ করে ৪৬৯টি ফ্ল্যাট।
যদিও ফ্ল্যাটগুলোর ৫২ শতাংশই সরকারি কর্মকর্তা, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারী এবং সংরক্ষিত কোটায় বরাদ্দ দেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি অর্থে গৃহায়নের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেটি এখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হওয়া গুরুতর অনিয়ম।
পর্যটন এলাকায় এ ধরনের প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

