শুধু পরিশ্রমেই কি বড়লোক হওয়া যায়? সনাতন জ্যোতিষ বলছে, নামের প্রথম অক্ষরও ভাগ্যের চাকা ঘোরায়। নামের ধ্বনি থেকে তৈরি হয় স্পন্দন, আর সেই স্পন্দন টানে গ্রহের এনার্জি। মা লক্ষ্মীর প্রিয় গ্রহ শুক্র ও চন্দ্র। এই দুই গ্রহের সাথে জড়িত ৪টা বিশেষ অক্ষর আছে।
বাড়িতে নতুন সদস্য এলে আমরা নাম রাখি শখ করে। কিন্তু জ্যোতিষ মতে, নাম শুধু ডাকার জন্য না। নামের প্রথম অক্ষর হল ‘বীজ মন্ত্র’। এই বীজ থেকেই ঠিক হয় আপনার স্বভাব, কেরিয়ার আর ধন-সম্পদ। স্বর বিজ্ঞান ও অঙ্ক জ্যোতিষ মতে, কিছু অক্ষরের ভাইব্রেশন এতটাই পজিটিভ যে স্বয়ং মা লক্ষ্মী তাদের উপর প্রসন্ন থাকেন। তারা কম খেটেও বেশি পায়, বিপদে টাকা জোগাড় হয়ে যায় ম্যাজিকের মতো। চলুন দেখি কোন ৪ অক্ষর সেই লাকি লিস্টে আছে।

জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটা অক্ষর এক একটা গ্রহের সাথে জড়িত। নামের প্রথম অক্ষর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, কারণ দিনে ১০০ বার এই নামেই আপনাকে ডাকা হয়। এই ডাকের শব্দতরঙ্গ আপনার অরা-কে চার্জ করে। মা লক্ষ্মী হলেন ধন, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী। তাঁর ফেভার পেতে গেলে শুক্র, চন্দ্র ও বৃহস্পতির সাপোর্ট লাগে। এই তিন গ্রহের সাথে সরাসরি কানেকশন আছে ৪টা অক্ষরের।
প্রথম লাকি অক্ষর হল ‘শ’ বা ‘স’। শীলা, সৌম্য, সাগর, সোনালী—এই সব নাম শুক্র গ্রহ দ্বারা চালিত। শুক্র মানে বিলাসিতা, টাকা, গ্ল্যামার, আরাম। শুক্র স্ট্রং থাকলে টাকা রোজগারের ১০টা রাস্তা খুলে যায়। ‘শ’ এবং ‘স’ দিয়ে নাম শুরু হলে জাতক খুব আকর্ষণীয় হয়। এরা কথা দিয়ে কাজ হাসিল করে, ব্যবসায় উন্নতি করে। মা লক্ষ্মীর কৃপায় এদের বাড়িতে কখনও অর্থকষ্ট হয় না। বিশেষ করে শুক্রবার জন্ম হলে সোনায় সোহাগা। এদের হাতে টাকা খরচ হলেও টাকা আটকে থাকে না, ঘুরে ফিরে ডাবল হয়ে আসে।
দ্বিতীয় অক্ষর হল ‘ল’। লক্ষ্মী, লাবণ্য, ললিত, লোকেশ—এই নামগুলো স্বয়ং মা লক্ষ্মীর নামের সাথে যুক্ত। ‘ল’ অক্ষর চন্দ্র ও বুধের যুগ্ম প্রভাবে চলে। চন্দ্র মন দেয়, বুধ বুদ্ধি দেয়। ফলে এরা ইমোশনালি স্ট্রং হয় আবার টাকা ম্যানেজ করতেও ওস্তাদ। ‘ল’ দিয়ে নাম শুরু হলে জাতক-জাতিকা খুব ভাগ্যবান হয়। এরা যেখানেই হাত দেয় সোনা ফলে। চাকরি হোক বা ব্যবসা, উপরের পোস্টে এরাই পৌঁছায়। এদের টাকা জমে, কারণ অযথা খরচ করে না। সংসারে শান্তি আর আলমারিতে টাকা—দুটোই থাকে।
তৃতীয় অক্ষর ‘র’। রোহিত, রিয়া, রাজ, রাধিকা—এই নাম সূর্য ও মঙ্গলের এনার্জি ক্যারি করে। সূর্য মানে নাম-যশ-প্রতিপত্তি, মঙ্গল মানে সাহস। মা লক্ষ্মী সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী মানুষকে পছন্দ করেন। ‘র’ অক্ষরের জাতকরা রিস্ক নিতে ভয় পায় না। তাই ব্যবসা, শেয়ার মার্কেট, প্রপার্টিতে এরা কোটিপতি হয়। এদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জন্মগত। একবার টাকা আসতে শুরু করলে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না। এদের উপর লক্ষ্মীর সাথে কুবেরেরও আশীর্বাদ থাকে।
