পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল নতুন রাজ্য সরকার। শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ৬ কোটি মানুষকে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারতের এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, আগামী জুলাই মাস থেকেই সাধারণ মানুষের হাতে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তুলে দেওয়া।
শুভেন্দুর দাবি, আগের সরকার কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির সঙ্গে সমন্বয় না করায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বহু সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, “দেশের অন্য রাজ্যের মানুষ যে সুবিধা পেয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তা পাননি। সেই পরিস্থিতি বদলাতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ করছি।”
নতুন করে যাঁরা স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসতে চান, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, অন্য রাজ্যে থাকা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারাও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন বলে দাবি তাঁর।
এ দিন স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আগামী ৩০ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গে সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের প্রতিরোধমূলক টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে ১৪ থেকে ১৫ বছরের বালিকাদের এই টিকা দেওয়া হবে। বিধানগর সাব-ডিভিশন হাসপাতালে এই প্রকল্পের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।
রাজ্যে ৪০০-র বেশি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এর ফলে কম দামে ওষুধ পাবেন সাধারণ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে ২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকাতেও পাওয়া যেতে পারে।
পাশাপাশি, প্রত্যেক প্রশাসনিক জেলায় মেডিক্যাল কলেজ তৈরির উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেছে সরকার। বর্তমানে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, আসানসোল এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজ নেই বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে “যুগান্তকারী পরিবর্তন” দেখতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ।
আয়ুস্মান ভারত স্বাস্থ্যসাথী দুটোই কী এক সঙ্গে চালু থাকবে?
হ্যাঁ, পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত এবং স্বাস্থ্যসাথী দুটি প্রকল্পই আপাতত এক সঙ্গে চালু থাকবে। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য কোনো পুরোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না এবং দুটি ব্যবস্থাই সমান্তরালভাবে কাজ করবে।
১. যৌথ পরিচালনা (Dual Coverage):
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালু হলেও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধাও বজায় থাকবে।
- সাধারণ মানুষ যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পান, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।
২. যোগ্যতা ও সমন্বয় :
- কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম বা শর্ত রয়েছে (যেমন দরিদ্র পরিবার বা ৭০ বছর ও তার ঊর্ধ্বের নাগরিক)। অন্য দিকে, স্বাস্থ্যসাথী ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত (Universal)।
- যারা সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের যোগ্যতার মধ্যে পড়বেন, তাদের জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কেন্দ্রের এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
যারা আয়ুষ্মান ভারতের শর্তের মধ্যে পড়বেন না (যেমন মধ্যবিত্ত বা নির্দিষ্ট আয়ের পরিবার), তারা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমেই চিকিৎসা সুবিধা পেতে থাকবেন।
