এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল হুগলি জেলার আরামবাগে। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন ছ’জন বাসিন্দা। সোমবার দুপুরে তাঁরা আরামবাগের মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে এই আবেদন জমা দেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনকারীরা সকলেই আরামবাগ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ওই ওয়ার্ডে মোট ২০৬ জনের নাম এসআইআর তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে গায়ে প্রয়োজনীয় নথি সেঁটে তাঁরা দফতরে হাজির হন এবং স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জমা দেন।

আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এক হাইস্কুল শিক্ষিকাও। তাইবুন্নেসা বেগম, যিনি দীর্ঘ ৩৪ বছর সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন এবং গোঘাট ভগবতী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রায় ২০ বছর। তাঁর দাবি, পেনশন সংক্রান্ত সমস্ত বৈধ নথি, পাসপোর্ট-সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মহকুমা শাসকের দফতরের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন,
“জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই হয়রানি আমরা সহ্য করতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়েই স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের আবেদন করেছি।”

এই আবেদন জমা দেওয়ার সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্বপন নন্দী। আবেদনকারীদের অভিযোগ, স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করেও বর্তমানে তাঁরা নিজেদের পরাধীন মনে করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ভবিষ্যতে তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হতে পারে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুই তাঁদের কাছে শ্রেয় বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। বিজেপির অভিযোগ, ভোটের মুখে ভয় সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে তৃণমূল। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের দাবি, তারা সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *