জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার দিন শেষ হতে চলেছে। আড়াই মাসেরও বেশি সময় আংশিক ভাবে বন্ধ থাকার পর সোমবার কলকাতায় ফের চালু হল কেন্দ্রীয় পোর্টাল। এর ফলে নতুন শংসাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি পুরনো রেকর্ডের ভিত্তিতে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর কাজও শুরু হল।
গত ২০ মে থেকে পোর্টালের পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। নতুন জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া গেলেও পুরনো নথি থেকে শংসাপত্র তৈরি বা তার ডিজিটাল কপি পাওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে প্রয়োজনীয় নথি হাতে না পেয়ে বিপাকে পড়েছিলেন বহু নাগরিক।
– বিজ্ঞাপন –
সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয়েছিল পুরনো জন্ম শংসাপত্র নিয়ে। স্কুল-কলেজে ভর্তি, পাসপোর্ট, সরকারি পরিষেবা কিংবা বিভিন্ন পরীক্ষায় বয়সের প্রমাণ হিসাবে জন্ম শংসাপত্র প্রয়োজন হয়। বহু ক্ষেত্রে পুরনো নথির তথ্য যাচাইয়েরও প্রয়োজন পড়ে। পোর্টাল বন্ধ থাকায় সেই কাজও থমকে ছিল। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, পুরনো শংসাপত্রের জন্য প্রায় ১৪-১৬ হাজার আবেদন জমা পড়ে রয়েছে।
এর পাশাপাশি শংসাপত্রে কারা স্বাক্ষর করবেন, তা নিয়েও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং তাঁদের দায়িত্ব বণ্টনের পর তাঁদের নতুন লগইন আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়।
শুক্রবার থেকেই কলকাতার বিভিন্ন শ্মশান ও কবরস্থান থেকে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া শুরু হয়েছিল। নতুন জন্ম শংসাপত্রের কাজও চলছিল। সোমবার কেন্দ্রীয় পোর্টাল চালু হওয়ায় এবার পুরনো জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের আবেদনও নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
তবে এই পরিষেবা আপাতত কলকাতাতেই চালু হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পুরসভা ও পঞ্চায়েতের রেজিস্ট্রারদের তালিকা সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেখানে এখনও পরিষেবা পুরোপুরি চালু হয়নি। তালিকা পাওয়ার পর ধাপে ধাপে অন্যান্য এলাকাতেও পোর্টাল চালু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
