একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়? নিয়ম করে প্রতি মাসে সঞ্চয় করার জন্য পোস্ট অফিসের ৫ বছরের Recurring Deposit (RD) একটি বিকল্প। বর্তমানে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ ত্রৈমাসিকে এই প্রকল্পে বার্ষিক ৬.৭% সুদ রয়েছে এবং সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে চক্রবৃদ্ধি হারে হিসাব করা হয়।

মাসে ₹৪,০০০ জমালে কত হবে?

মাসে ₹৪,০০০ করে ৬০ মাস জমা দিলে মোট নিজের পকেট থেকে জমবে ₹২,৪০,০০০। ৬.৭% হারে প্রচলিত RD গণনা অনুযায়ী, ৫ বছর শেষে পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ₹২,৮৫,৪৬৪। অর্থাৎ সুদ বাবদ পাওয়া যেতে পারে প্রায় ₹৪৫,৪৬৪

– বিজ্ঞাপন –

হিসাব পরিমাণ
মাসিক কিস্তি ₹৪,০০০
মোট কিস্তি ৬০টি
মোট জমা ₹২,৪০,০০০
আনুমানিক সুদ ₹৪৫,৪৬৪
মেয়াদ শেষে প্রায় ₹২,৮৫,৪৬৪

এই হিসাবের ক্ষেত্রে প্রতিটি কিস্তি সময়মতো জমা দেওয়া এবং ৬.৭% হার প্রযোজ্য থাকা ধরে নেওয়া হয়েছে। ছোট সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার সরকার সময় সময় পর্যালোচনা করে। তাই নতুন RD খোলার আগে সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি হার যাচাই করা জরুরি।

৫ বছর টাকা আটকে রাখতে হবে?

RD মূলত নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত সঞ্চয়ের জন্য। তবে প্রয়োজন হলে নিয়মসাপেক্ষে তিন বছর পর অ্যাকাউন্ট আগাম বন্ধ করা যায়। সেক্ষেত্রে পাঁচ বছরের RD-র পূর্ণ সুদ পাওয়া যায় না; সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্টের হারে সুদ দেওয়া হয়।

RD-র টাকা রেখে ঋণও পাওয়া যায়

নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে RD অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ঋণের সুবিধাও রয়েছে। তবে কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে, তার জন্য অ্যাকাউন্টের অবস্থা ও প্রযোজ্য নিয়ম দেখতে হবে। তাই জরুরি প্রয়োজনে ঋণ নেওয়ার কথা ভাবলে পোস্ট অফিস থেকে বর্তমান শর্ত জেনে নেওয়া উচিত।

দিনে ₹১৩৩ করে জমালেই হবে?

মাসে ₹৪,০০০-কে গড়ে দিনে প্রায় ₹১৩৩ হিসেবে ভাবা যায়, যা ব্যক্তিগত বাজেট তৈরিতে সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু পোস্ট অফিস RD-তে কিস্তি দিতে হয় মাসিক ভিত্তিতেই। অর্থাৎ প্রতিদিন ₹১৩৩ আলাদা করে রাখলে সেটি নিজে থেকে RD-তে জমা হয়ে যাবে না।

বিজ্ঞাপন

তাই পাঁচ বছরের কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে—যেমন পড়াশোনা, বাড়ির প্রয়োজনীয় খরচ বা ভবিষ্যতের কোনও পরিকল্পনা—মাসে ₹৪,০০০ নিয়মিত রাখা সম্ভব কি না, সেটিই আগে হিসাব করা জরুরি। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করার মতো আলাদা সঞ্চয় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রসঙ্গত মনে রাখবেন, এটি একটি তথ্য নিবেদন। বিনিয়োগের পরামর্শ নয়; RD-র সুদ সরকার নির্ধারিত এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বিনিয়োগ করার আগে তৎকালীন হার ও শর্ত দেখে তবেই অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *