পুজোর ছুটিতে কয়েক দিনের জন্য গাড়ি নিয়ে অসম ঘুরতে চাইলে মানস জাতীয় উদ্যান, গুয়াহাটি ও কামাখ্যাকে একই সফরে রাখা যায়। কলকাতা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গ হয়ে মানস, সেখান থেকে গুয়াহাটি এবং শেষে কামাখ্যা দর্শন—লম্বা হলেও বৈচিত্র্যে ভরা হতে পারে এই রুট।
প্রথম দিন কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে রাত কাটানো যায়। প্রায় ৬০০ কিলোমিটারের এই পথে প্রয়োজনমতো কৃষ্ণনগর, মালদহ বা রায়গঞ্জে বিরতি নেওয়া সুবিধাজনক। পরদিন শিলিগুড়ি থেকে মানসের উদ্দেশে রওনা দিন। আলিপুরদুয়ার, বঙ্গাইগাঁও ও বরপেটা রোড হয়ে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় জাতীয় উদ্যানে।
– বিজ্ঞাপন –
মানসে অন্তত দু’টি রাত রাখলে জঙ্গল সাফারি ও প্রকৃতি উপভোগের সময় পাওয়া যাবে। বাঁশবারী, ভূঞাপারা ও পানবারী রেঞ্জ থেকে সাফারির ব্যবস্থা রয়েছে। বাঁশবারীতে হাতি সাফারির সুযোগও থাকে। সাফারির জন্য নির্দিষ্ট জিপসি নিতে হয় এবং পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। রেঞ্জভেদে সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও আলাদা—বাঁশবারী মঙ্গলবার, ভূঞাপারা বৃহস্পতিবার এবং পানবারী শুক্রবার।
এর পরের গন্তব্য গুয়াহাটি। মানস থেকে সড়কপথে প্রায় তিন-চার ঘণ্টায় শহরে পৌঁছনো যায়। ব্রহ্মপুত্রের বুকে নৌবিহার, উমানন্দ মন্দির, রোপওয়ে ও সূর্যাস্তের ক্রুজ রাখা যেতে পারে তালিকায়। পুজোর সময়ে ক্রুজের চাহিদা বেশি থাকায় আগাম বুকিং সুবিধাজনক।
গুয়াহাটি ঘোরার পর কামাখ্যা মন্দির দর্শন সেরে কলকাতার পথে ফেরা। ফেরার দীর্ঘ পথ ভেঙে নিতে আলিপুরদুয়ারে এক রাত থাকা যায়। সময় হাতে থাকলে রায়গঞ্জ বা মালদহেও বিরতি নেওয়া সম্ভব। ফলে শুধু গন্তব্য নয়, যাত্রাপথকেও ভ্রমণের অংশ করে তুলতে পারবেন।
