মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি এবং ইরান-সংকটকে ঘিরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও ভারতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। তাঁর দাবি, দেশে বর্তমানে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
লুধিয়ানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পুরী বলেন, দেশে ৬০ দিনেরও বেশি সময়ের জন্য অপরিশোধিত তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে। এলপিজির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক। ফলে সরবরাহে কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।
– বিজ্ঞাপন –
মন্ত্রী দাবি করেন, ২০২২ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিশ্বের বহু দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে পাকিস্তানে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৭০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৬৬ শতাংশ, ফ্রান্সে ৪৭ শতাংশ, ইতালিতে ৪৬ শতাংশ, বাংলাদেশে ৩৬ শতাংশ এবং আমেরিকায় ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতে একই সময়ে পেট্রলের দাম ৩.১ শতাংশ কমেছে।
পুরীর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার একাধিকবার আবগারি শুল্ক কমানোর ফলে সাধারণ মানুষকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ বহন করতে হয়নি। ২০২১ সালের নভেম্বর, ২০২২ সালের মে এবং সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিজেলের বিক্রি দৈনিক ২০০ লিটারে সীমাবদ্ধ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী জানান, কালোবাজারি রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এলপিজি উৎপাদন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন পুরী। তাঁর দাবি, আগে দেশে দৈনিক প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৫৪ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। ফলে আমদানির উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে এলপিজি গ্রাহকদের ধীরে ধীরে পাইপড গ্যাস ব্যবহারের দিকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বিকল্প জ্বালানির প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ৪৭টি E85 (৮৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল) ফুয়েল স্টেশন রয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা ৫০০-তে এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫,০০০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় ভারত কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও জানান পুরী। তাঁর কথায়, ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।
