বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গত ২৯ এপ্রিল। নতুন সরকারও শপথ নিয়েছে ৯ মে। কিন্তু তার পরেও রাজ্যের বহু স্কুলে রয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ফলে পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত স্কুল চত্বর খালি করে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর।

সম্প্রতি দফতরের পক্ষ থেকে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, সমস্ত জেলাশাসক এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, অন্য কোনও উপযুক্ত ভবনের ব্যবস্থা করতে হবে।

– বিজ্ঞাপন –

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর জেরে বহু ক্ষেত্রে পঠনপাঠন ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি একাধিক স্কুলে পরীক্ষাও পিছিয়ে দিতে হয়।

শিক্ষা দফতরের কাছে জমা পড়া রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১ জুন গরমের ছুটির পর স্কুল খোলার পরও রাজ্যের অন্তত ১৬৫টি স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী অবস্থান করছিল। বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শকদের পাঠানো রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রশাসনের কাছে পাঠানো চিঠিতে ওই স্কুলগুলির তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নির্বাচনের সময় স্কুলে বাহিনী থাকার কারণে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তার উদাহরণও রয়েছে। গত ১ এপ্রিল থেকে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির সামেটিভ পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোটালপুরের একটি স্কুলে পরীক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছেও পরীক্ষা দিতে পারেনি। কারণ তার আগেই স্কুলটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর দখলে চলে যায় বলে অভিযোগ।

সেই সময় থেকেই শিক্ষকমহল ও অভিভাবকদের একাংশ দাবি তুলেছিলেন, স্কুলের পরিবর্তে অন্য কোনও সরকারি ভবনে বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করা হোক। এবার সেই দাবির প্রতিফলনই দেখা গেল শিক্ষা দফতরের নির্দেশে।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। ১ জুন স্কুল খুলেছে। তার দু’সপ্তাহ পরেও যদি স্কুলে বাহিনী থেকে যায়, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা করা উচিত।”

অন্যদিকে শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও বহু স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকায় স্বাভাবিক ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত স্কুল খালি করার এই নির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি হলেও, তার প্রভাব যাতে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবনে না পড়ে, সে বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশ সেই ভারসাম্য রক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *