খবর অনলাইন ডেস্ক: শুরু হতে চলেছে ফুটবলের সর্ববৃহৎ আসর ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর থাকবে এই টুর্নামেন্টে। সুপারফ্যান থেকে সাধারণ দর্শক— সকলেই প্রবেশ করবেন গোল, নাটকীয়তা, উত্তেজনা এবং বিশ্বব্যাপী ফুটবল উন্মাদনার এক আলাদা জগতে।

উত্তর আমেরিকা জুড়ে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বকাপের আবহ। আয়োজক শহরগুলি খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশাপাশি, বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর আগমনের জন্যও চলছে ব্যাপক আয়োজন।

– বিজ্ঞাপন –

মিয়ামির ব্যস্ত রাস্তা থেকে কলকাতার অলিগলি — সর্বত্র ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন বিশ্বকাপের দিকে। চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ এবং স্মরণীয় মুহূর্তের মধ্য দিয়ে দলগুলি লড়বে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে। এবারের আসরে মোট ১০৪টি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ

ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করছে। ফলে এটিই হতে চলেছে এখন পর্যন্ত আয়োজিত সবচেয়ে বড়ো বিশ্বকাপ। বিস্তৃত আকারের এই টুর্নামেন্টে ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে।

খেলার স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার এবং মেক্সিকো সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপকে আরও বৃহৎ ও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তারকাদের দিকে থাকবে বিশেষ নজর

বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের মঞ্চ। এবারও ফুটবলপ্রেমীদের নজরে থাকবেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ড, আর্জেন্টিনার লিয়োনেল মেসি, ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম, স্পেনের তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল এবং ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

বিজ্ঞাপন

তবে বিশ্বকাপ শুধুমাত্র তারকাদের মঞ্চ নয়। এই টুর্নামেন্ট বারবার প্রমাণ করেছে, অখ্যাত খেলোয়াড়রাও নিজেদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রাতারাতি বিশ্বজোড়া পরিচিতি অর্জন করতে পারেন। তাই এবারের আসরেও নজর থাকবে সম্ভাবনাময় নতুন মুখ এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলির দিকে।

ফলে আগামী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব জুড়ে ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে থাকবে। বিশ্বের সেরা দল, সেরা তারকা এবং নতুন নায়কদের লড়াইয়ে চোখ থাকবে কোটি কোটি দর্শকের। সবশেষে কার হাতে উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি, তার উত্তর মিলবে ১০৪ ম্যাচের মহারণ শেষে।

১২টি গ্রুপ, ৪৮টি দেশ

প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৮টি দেশকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করে খেলানো হবে

গ্রুপ এ – মেক্সিকো, সাউথ আফ্রিকা, সাউথ কোরিয়া ও চেক রিপাবলিক।

গ্রুপ বি – কানাডা, কাতার, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও সুইৎজারল্যান্ড।

গ্রুপ সি – ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতিন ও স্কটল্যান্ড।   

গ্রুপ ডি – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক।  

গ্রুপ ই – জার্মানি, কুরাকাও, আইভরি কোস্ট ও একুয়েদর।

গ্রুপ এফ – নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন ও টিউনিশিয়া।

গ্রুপ জি – বেলজিয়াম, ইজিপ্ট, ইরান ও নিউ জিল্যান্ড।

গ্রুপ এইচ – স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ে।

গ্রুপ আই – ফ্রান্স, সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ে।

গ্রুপ জে – আর্জেন্তিনা, আলজিরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডন।  

গ্রুপ কে – পর্তুগাল, ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কোলোম্বিয়া।

গ্রুপ এল – ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা।

প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় দুই দল এবং আটটি সেরা তৃতীয়-স্থানপ্রাপ্ত দল রাউন্ড অব ৩২-এ উন্নীত হবে। এরপর শুরু হবে নকআউট পর্ব: হারলেই বিদায়, জিতলেই এগিয়ে যাওয়া।

ম্যাচগুলো ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে — এর মধ্যে ১১টি যুক্তরাষ্ট্রে, ২টি কানাডায় এবং ৩টি মেক্সিকোতে। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল —সবগুলোই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *