
বাবা-মা নিজের কষ্টের টাকায় কেনা বাড়ি-জমি কি শুধু ছেলেকেই দিয়ে দিতে পারেন? মেয়ে কি কিছুই পাবে না? এই প্রশ্নে বহু পরিবারে অশান্তি। আইন বলছে, নিজের উপার্জনে কেনা সম্পত্তির ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অধিকার সবচেয়ে বেশি।
বাবা-মা নিজের কষ্টের টাকায় কেনা বাড়ি-জমি কি শুধু ছেলেকেই দিয়ে দিতে পারেন? মেয়ে কি কিছুই পাবে না? এই প্রশ্নে বহু পরিবারে অশান্তি। আইন বলছে, নিজের উপার্জনে কেনা সম্পত্তির ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অধিকার সবচেয়ে বেশি, কিন্তু মেয়েরও চ্যালেঞ্জ করার রাস্তা খোলা আছে।
আমাদের সমাজে এখনও অনেক বাবা-মা মনে করেন, মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছি, তাই সব সম্পত্তি ছেলেকেই দিয়ে যাব। এই নিয়ে মেয়ে কি আদালতে যেতে পারে? চলুন, আইন কী বলছে সহজ ভাষায় জেনে নিই।
১. নিজের উপার্জনে কেনা সম্পত্তি হলে – বাবা-মা যাকে খুশি দিতে পারেন:
যদি বাড়ি, জমি বা ফ্ল্যাট বাবা-মা নিজেদের রোজগারের টাকায় কিনে থাকেন, সেটা তাঁদের Self-Acquired Property। এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী তাঁরা জীবিত অবস্থায় যাকে খুশি দান করতে পারেন।
– গিফট ডিড (Gift Deed): রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি করা দানপত্রের মাধ্যমে ছেলেকে লিখে দিলে, সেই সম্পত্তি ছেলের হয়ে যায়। – উইল (Will): উইলের মাধ্যমে ছেলেকে দিয়ে গেলেও একই কথা।
এই ক্ষেত্রে মেয়ে সন্তান হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার দাবি জানাতে পারেন না। বাবা-মা জীবিত থাকাকালীন মেয়ের কোনও আইনি অধিকার জন্মায় না।
তবে মেয়ে কখন চ্যালেঞ্জ করতে পারবে?
যদি মেয়ে প্রমাণ করতে পারেন যে – – বাবা-মাকে ভয় দেখিয়ে বা জোর করে সই করানো হয়েছে। – প্রতারণা করে বা মিথ্যে বুঝিয়ে দানপত্র করানো হয়েছে। – দানপত্র করার সময় বাবা-মা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। – উইলটি জাল।
তাহলে মেয়ে আদালতে সেই গিফট ডিড বা উইল বাতিল করার জন্য মামলা করতে পারেন। আদালত তথ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে দানপত্র বাতিলও করে দিতে পারে।
২. বাবা-মা কোনও উইল না করে মারা গেলে – মেয়ের সমান অধিকার:
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। যদি বাবা-মা কোনও উইল না করেই মারা যান, তাহলে সম্পত্তি আর তাঁদের ব্যক্তিগত থাকে না, সেটা হয়ে যায় পৈতৃক সম্পত্তি।
তখন হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ২০০৫ অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ওয়ারিশ হিসেবে ছেলে এবং মেয়ে – বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত – সমান অংশ পাবেন। মেয়েকে বঞ্চিত করা যাবে না। এমনকি মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও তার অধিকার থাকবে।
মনে রাখবেন: পৈতৃক বা ঠাকুরদার আমলের সম্পত্তি হলে ছেলেকে সবটা লিখে দেওয়া যায় না। সেখানে জন্মগতভাবেই মেয়ের অধিকার থাকে।
