ব্রাজিল: ২ (কাসেমিরো, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি) জাপান: ১ (কাইশু সানো)
খবর অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলকে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিল জাপান। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, আক্রমণের ধার আর ধারাবাহিক চাপেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় সেলেসাওরা। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
– বিজ্ঞাপন –
প্রথমার্ধে কাইশু সানো গোলে জাপান ১-০
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের দখলে। মাঝমাঠে ছোট ছোট পাসে খেলার ছন্দ গড়ে তুলে একের পর এক আক্রমণ সাজায় তারা। কিন্তু জাপানের সুশৃঙ্খল রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বরং ম্যাচের ২৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় জাপান। দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন কাইশু সানো। অপ্রত্যাশিত এই গোলে কিছুটা চাপে পড়ে ব্রাজিল। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা।
আরও আক্রমণাত্মক ব্রাজিল আনল জয়
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষের অর্ধে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। সেই চাপের ফল আসে ৫৬তম মিনিটে। বাম দিক থেকে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের দারুণ এক ক্রসে উড়ে এসে হেডে বল জালে পাঠান অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সেলেসাওরা।
গোলের পরও আক্রমণের গতি কমায়নি ব্রাজিল। একের পর এক সুযোগ তৈরি করে জাপানের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। অন্যদিকে ব্যবধান ধরে রাখতে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে জাপান। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ আর সামলাতে পারেনি এশিয়ার দলটি। নির্ধারিত সময়ের শেষ ভাগে ব্রাজিল পেয়ে যায় জয়সূচক গোল, যা নিশ্চিত করে তাদের পরের রাউন্ডে ওঠা।
বিজ্ঞাপন
স্কোরলাইন ব্যবধানে খুব বড় না হলেও ম্যাচ জুড়ে বলের দখল, সুযোগ সৃষ্টি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। অন্যদিকে জাপান শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের চাপ সামাল দিতে পারেনি।
এই জয়ে বিশ্বকাপ মিশন অব্যাহত থাকল ব্রাজিলের। তবে নকআউট পর্বে জাপানের বিপক্ষে এই ম্যাচটি এটাও মনে করিয়ে দিল, শিরোপার পথে এগোতে হলে আনচেলত্তির দলকে প্রতিটি মুহূর্তেই সেরাটা দিতে হবে।
