জার্মানি: ৭ (নিমেচা, শ্লটারবেক, হাভার্তজ ২, মুসিয়ালা, ব্রাউন, উনদাভ) কুরাসাও: ১ (কোমেনেনসিয়া)

খবর অনলাইন ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তির দাপট দেখাল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে জার্মানরা। পুরো ম্যাচ জুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়ে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে তারা।

– বিজ্ঞাপন –

অন্যদিকে, বড় ব্যবধানে হারলেও ইতিহাস গড়েছে কুরাসাও। ম্যাচে তাদের একমাত্র গোলটি ছিল ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশটির প্রথম গোল।

বিশ্বকাপে গোল উৎসবের ঐতিহ্য ধরে রাখল জার্মানি

এই ৭-১ ব্যবধানের জয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরিয়ে এনেছে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জার্মানির ঐতিহাসিক ৭-১ জয়ের স্মৃতি। ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সাত গোলের আনন্দে মাতল জার্মানি।

কানাডার টরন্টোয় আয়োজিত ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে জার্মানি। খেলার ৬ মিনিটেই দলের হয়ে গোলের সূচনা করেন ফেলিক্স নিমেচা। ফ্লোরিয়ান ভির্তজের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ার পর বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

ইতিহাস গড়ল কুরাসাও

ম্যাচের ২১ মিনিটে জার্মান রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান কুরাসাওয়ের তরুণ ফুটবলার লিভানো কোমেনেনসিয়া। দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে কুরাসাওয়ের প্রথম গোলদাতা হিসেবে নাম লেখান।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই গোলটি করেছেন দলের সবচেয়ে কমবয়সি খেলোয়াড়। ফলে কুরাসাওয়ের ফুটবলের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

বিরতির আগেই নিয়ন্ত্রণ জার্মানির হাতে

ম্যাচে সমতা এলেও ছন্দ হারায়নি জার্মানি। ৩৮তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে গোল করেন নিকো শ্লটারবেক। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর প্রথম গোল।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফেলিক্স নিমেচাকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেয় কুরাসাও। সেই সুযোগ থেকে নির্ভুল শটে গোল করেন কাই হাভার্তজ। ফলে বিরতিতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানি।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও চার গোল

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র দুই মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। যোশুয়া কিমিখের পাস থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৪-১ করেন তিনি এর পর ৬৮ মিনিটে জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান নাথানিয়েল ব্রাউন। ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে গোল করেন দেনিজ উনদাভ।

নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কাই হাভার্তজ। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে পাঠিয়ে ৭-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতা দেশ হিসাবে রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ

এই সাত গোলের জয়ের মাধ্যমে ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের সর্বমোট গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়েছে জার্মানি। বর্তমানে বিশ্বকাপে জার্মানির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৯, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বাধিক।

দলের একাধিক খেলোয়াড়ের গোল পাওয়াও জার্মানির জন্য ইতিবাচক দিক। প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে পারফরম্যান্স করে শিরোপা প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে তারা।

জার্মানির পরবর্তী ম্যাচ

গ্রুপ ‘ই’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২০ জুন ২০২৬, কানাডার টরন্টো শহরে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায়। ভারতের ফুটবলপ্রেমীরা ম্যাচটি দেখতে পারবেন ২১ জুন ভোর ১টা ৩০ মিনিট (ভারতীয় সময়) থেকে।

প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে উড়িয়ে দেওয়া জার্মানি জয়ধারা অব্যাহত রাখতে চাইবে। অন্যদিকে, গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েদরকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী আইভরি কোস্টও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *