ইস্টবেঙ্গল এফসি: ০ (৫) এসসি দিল্লি: ০ (৩)

খবর অনলাইন ডেস্ক: সল্টলেক স্টেডিয়ামে বুধবার ডুরান্ড কাপের প্রথম সেমিফাইনালে এসসি দিল্লিকে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠল ইস্টবেঙ্গল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ডুরান্ড কাপের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় না থাকায় সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়।

– বিজ্ঞাপন –

শুটআউটে ইস্টবেঙ্গলের পাঁচ ফুটবলার অনোয়ার আলি, রোহিত দানু, লালচুংনুঙ্গা, ক্রিস্টোফার ইকোনোমিডিস এবং মহম্মদ রশিদ প্রত্যেকেই গোল করেন। ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিল এসসি দিল্লির প্রথম শটটি বাঁচিয়ে দেন। জুয়ান সেবাস্তিয়ান পেনার নেওয়া সেই শট রুখে দিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন গিল।

এসসি দিল্লির হয়ে রদ্রিগুইনহো, দুভান মিনার এবং মহম্মদ আইমেন পেনাল্টি থেকে গোল করেন। তবে পেনাল্টিতে ইস্টবেঙ্গলের নিখুঁত সাফল্যই শেষপর্যন্ত তাদের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে ১৬ বার ডুরান্ড কাপ জেতা ইস্টবেঙ্গল ২৮তম বারের মতো প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছোল।

ম্যাচের একটি মুহূর্ত।   

পেনাল্টি সেভ করলেন প্রভসুখন

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল ইস্টবেঙ্গল। তৃতীয় মিনিটে এডমুন্ড লালরিন্দিকার বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাকহিলে বল পেয়ে বক্সের বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে পড়েন জেসিন টি কে। তাঁর ক্রস গোলের সামনে দিয়ে চলে গেলেও বিপিন সিং তা কাজে লাগাতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

১৬ মিনিটে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যান রশিদ। তাঁর জোরালো ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তিন মিনিট পর ফের সুযোগ তৈরি করেন জেসিন। এসসি দিল্লির অর্ধে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাস খেলে তিনি বক্সে ঢুকে পড়েন। তবে কঠিন কোণ থেকে নেওয়া তাঁর শটও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

৩৩ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় এসসি দিল্লি। জোসেফ সানির নিচু ক্রসে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্ডার সন্দীপ মান্ডির আগে বলের কাছে পৌঁছে যান রদ্রিগুইনহো। তাঁকে আটকাতে গিয়ে স্লাইডিং চ্যালেঞ্জ করেন মান্ডি। রদ্রিগুইনহো পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টি দেন। কিন্তু স্পট-কিক থেকে তাঁর নেওয়া শট দুর্দান্তভাবে বাঁচিয়ে দেন গিল। ফলে গোলশূন্যই থাকে ম্যাচ।

প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য দর্শকাসন ভর্তি।

দ্বিতীয়ার্ধেও ইস্টবেঙ্গলের চাপ, কিন্তু গোলশূন্য

দ্বিতীয়ার্ধেও ইস্টবেঙ্গল চাপ বজায় রাখে এবং দীর্ঘ সময় এসসি দিল্লির অর্ধে খেলা চালায়। ৭৪ মিনিটে আবারও গোলের খুব কাছে পৌঁছে যান রশিদ। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর শট ডিফ্লেক্ট হয়ে ইস্টবেঙ্গলের হতাশা বাড়িয়ে বাঁ পোস্টে লাগে।

ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণাত্মক দাপট থাকলেও গোলের দেখা না পাওয়ায় দলের পুরনো সমস্যাটিই আরও একবার সামনে আসে। সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলিকে গোলে পরিণত করার মতো কার্যকর স্ট্রাইকারের অভাব এখনও স্পষ্ট।

প্রভসুখন গিলকে (নীল জার্সি) জড়িয়ে ধরেছেন সতীর্থরা।

জয়ে পৌঁছে দিলেন সেই প্রভসুখন

অথচ এর কিছু দিন আগেই এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে কুয়েতের শীর্ষ লিগের রানার্স-আপ আল আরাবি এফসিকে অতিরিক্ত সময়ে ৪-১ গোলে হারিয়ে পরের পর্বে উঠেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝলক দেখা গেলেও এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে সেই ধার আর গোলের সামনে কার্যকর ফিনিশিংয়ে দেখা যায়নি।

তবে শেষপর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে গিলের গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং পাঁচটি নিখুঁত শট ইস্টবেঙ্গলকে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পৌঁছে দিল। ফাইনালে তারা মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বনাম নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।  

ছবি: সঞ্জয় হাজরা



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *