ক্যালেন্ডারে বিশ্বকর্মা পুজো পেরিয়ে দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু। কিন্তু শরতের সেই চেনা নীল আকাশের দেখা এখনও নেই। বরং কালো মেঘ, মেঘের গর্জন আর ঝেঁপে বৃষ্টিতেই কাটছে সেপ্টেম্বরের দিন। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে এই ভেজা আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতায় তিন দিনই আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
– বিজ্ঞাপন –
কোন কোন জেলায় বৃষ্টি?
শুক্রবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রপাতের সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। তবে আপাতত দক্ষিণবঙ্গে বড় ধরনের ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই।
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট তুলনামূলক কমেছে। শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার-সহ কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার থেকে আপাতত উত্তরের জেলাগুলিতে কোনও বড় আবহাওয়া সতর্কতা নেই।
সাগরে ফের নিম্নচাপের সম্ভাবনা
বৃষ্টির পিছু ছাড়ার নাম নেই, তার উপর বঙ্গোপসাগরে নতুন করে আবহাওয়ার ভ্রুকুটি। উত্তর তাইল্যান্ডের উপর থাকা ঘূর্ণাবর্তটি ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে উত্তর আন্দামান সাগরের দিকে এগোতে পারে। তার প্রভাবে ১৯ সেপ্টেম্বরের দিকে আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সেটি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে।
অন্য দিকে, পশ্চিম ভারতে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হলেও পূর্ব ভারতে এখনও তার লক্ষণ স্পষ্ট নয়। ফলে পুজোর আগে বৃষ্টির এই পর্ব কবে পুরোপুরি কাটবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞাপন
কলকাতায় শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৪ ডিগ্রি কম। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে প্রায় ১৫.১ মিলিমিটার বৃষ্টিও হয়েছে।
অর্থাৎ, পুজোর প্রস্তুতি যতই এগোক, বাংলার আকাশে আপাতত শরতের রোদ নয়—বৃষ্টি আর মেঘেরই দাপট।
