নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলির (ওএমসি) প্রায় ৭৪,৭৮১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের হিসাব অনুযায়ী, উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি বিক্রি করায় এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সংস্থাগুলি।
জ্বালানির দাম কমানো হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী ও স্থিতিশীল থাকে, তাহলে সরকার পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করবে।
– বিজ্ঞাপন –
পুরীর বক্তব্য, বর্তমানে তেল বিপণন সংস্থাগুলি এখনও সেই অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ করছে, যা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের চরম পর্যায়ে উচ্চ মূল্যে কেনা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু সংস্থাগুলি এখনও সেই সময় কেনা অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার প্রভাব এখনও খুচরো বাজারে প্রতিফলিত হয়নি।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, সাধারণত তেল সংস্থাগুলি অন্তত দু’মাস আগে অপরিশোধিত তেল কেনে। ফলে বর্তমানে যে তেল পরিশোধন করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই এপ্রিল অথবা মে মাসের শুরুতে কেনা হয়েছিল, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছিল অত্যন্ত বেশি।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সমঝোতা হওয়ার পর জুন মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। সেই সময় ভারতীয় তেল বিপণন সংস্থাগুলির দৈনিক গড় ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা।
পরবর্তীকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে বর্তমানে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলারে নেমে এসেছে, যা সংঘাত-পূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি।
বিজ্ঞাপন
হরদীপ সিং পুরী আরও দাবি করেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় দেশে তেলের সরবরাহে কোনও বিঘ্ন ঘটেনি। কোথাও জ্বালানির অভাব বা পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেসরকারি তেল সংস্থা নয়ারা এনার্জি তাদের দেশের ৭,০০০-এর বেশি পেট্রোল পাম্পে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা কমানোর ঘোষণা করেছে। ফলে সরকারি তেল সংস্থাগুলিও আগামী দিনে জ্বালানির দাম কমানোর পথে হাঁটবে কি না, সে দিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।
