বারুইপুর: বারুইপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বারুইপুরে পুলিশ সুপারের (এসপি) দফতরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ঘটনার সময় পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক শতাংশও শিথিলতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গত শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের এক কিশোরী। রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তবে ঘটনার পর থেকেই নির্যাতিতার পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, নিখোঁজ ডায়েরি হওয়ার পরও যথাসময়ে তৎপরতা দেখানো হয়নি।

– বিজ্ঞাপন –

এই অভিযোগের জেরে রবিবার বারুইপুরে ব্যাপক বিক্ষোভ, পথ ও রেল অবরোধ হয়। বিক্ষোভ চলাকালীন সন্দেহভাজন মনে করে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়।

মঙ্গলবার এসপি দফতরে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লোকের যদি ওই সময়ের মধ্যে এক শতাংশও শিথিলতা থাকে, তবে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।” তিনি জানান, তদন্তের প্রতিটি দিক, পুলিশের ভূমিকা এবং ঘটনার সময় প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে।

এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তও। তিনি জানান, এই ঘটনায় কোনও দোষীকেই রেয়াত করা হবে না। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

এসপি দফতরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে ওই যুবকের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তাঁকে নির্দোষ বলেই উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং ঘোষণা করেন, তাঁর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। নির্যাতিতার ঘটনায় যেমন প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, তেমনই গণপিটুনিতে নিহত যুবকের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও সমান কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *