নয়াদিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলনের নৈশভোজে সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া এই বিশেষ নৈশভোজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-সহ ব্রিক্‌স-এর একাধিক নেতা উপস্থিত থাকলেও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। তাঁর অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট কারণ অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কয়েকটি সূত্রের দাবি, সম্মেলনের পর বিশ্রামের জন্য হোটেলে ফিরে গিয়েছিলেন শি।

শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন শি জিনপিং। এরপর ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত গালা ডিনারে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মহম্মদও নৈশভোজে ছিলেন না; সম্মেলন শেষে তিনি দেশে ফিরে যান।

– বিজ্ঞাপন –

নিরামিষ মেনু নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ

নৈশভোজের সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতারা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবারের প্রশংসা করার পাশাপাশি নিজের বোনের পছন্দের ছোলে বাটুরের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সঙ্গে ছোলে বাটুরের ছবিও পোস্ট করেন।

কংগ্রেস নেত্রী শামা মহম্মদ মেনুর ছবি দিয়ে মন্তব্য করেন, “শি জিনপিং হোটেলে ফিরে গিয়ে খাওয়ার সিদ্ধান্তে অবাক হওয়ার কিছু নেই।” তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও মেনু নিয়ে কটাক্ষ করে ব্রিক্‌স নেতাদের কাছের কোনও করিমস থেকে বরহা কাবাব আনানোর পরামর্শ দেন।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, বিজেপি নিজেদের খাদ্যাভ্যাসের পছন্দ অন্যদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ভারত যেহেতু বৈচিত্র্যময় ও বহু-রন্ধনপ্রথার দেশ, সেখানে বিশ্বের রাষ্ট্রনেতাদের সামনে দেশের আমিষ খাবারের ঐতিহ্য তুলে ধরা হল না কেন?

কী ছিল ব্রিক্‌স ডিনারের মেনু?

গালা ডিনারে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নিরামিষ খাবারকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। শুরুতে ছিল খান্ডভি মিলখুম্ব গালৌটি—মাশরুম দিয়ে তৈরি কাবাব।

বিজ্ঞাপন

মূল খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক, গাজর-বিনস পোরিয়াল, মিলেট পোলাও, বিটরুট রায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি। গুচ্ছি মারমিকে ব্যবহার করা হয়েছিল হিমালয়ের মোরেল মাশরুম ও অ্যাসপারাগাস।

ডেজার্টে ছিল ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম, জিলিপি এবং শাহতুত ফিরনি। নৈশভোজের পাশাপাশি ১০০-রও বেশি শিল্পীর অংশগ্রহণে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল।

ভারতের আয়োজনে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিক্‌স সম্মেলন। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়া রাষ্ট্রনেতা ও প্রতিনিধিদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই গালা ডিনারের আয়োজন করেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *