দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের বিস্তীর্ণ অংশে যখন টানা বৃষ্টিতে বিপর্যয়, তখন সম্পূর্ণ উল্টো ছবি মহারাষ্ট্রে। বৃষ্টির ঘাটতিতে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় তৈরি হয়েছে খরার পরিস্থিতি। শনিবার মহারাষ্ট্র সরকার ৩৫৮টি তহসিলের মধ্যে ২৬৫টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ, রাজ্যের প্রায় ৭৪ শতাংশ তহসিল এই ঘোষণার আওতায় এল।

বৃষ্টির অভাবে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে কৃষি। সয়াবিন, তুলো, মুগ, ভুট্টা-সহ খরিফ মরসুমের একাধিক ফসল ক্ষতির মুখে। বিশেষ করে মারাঠওয়াড়া ও বিদর্ভের বেশ কিছু এলাকায় চাষের পাশাপাশি পানীয় জল এবং গবাদি পশুর জন্য জলের সমস্যাও তৈরি হয়েছে। বিড ও ধারাশিবে জুলাইয়ের পর থেকে বৃষ্টির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

– বিজ্ঞাপন –

১৮.৮ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি

রাজ্য সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে বৃষ্টি হয়েছে ৭৫৫.৯ মিলিমিটার। স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ৯৩২.৩ মিলিমিটার। অর্থাৎ, সামগ্রিক ঘাটতি ১৮.৮ শতাংশ।

ছত্রপতি সম্ভাজিনগর বিভাগে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে স্বাভাবিক ৬১৩.১ মিলিমিটারের তুলনায় বৃষ্টি হয়েছে ৪২৪.৫ মিলিমিটার—ঘাটতি প্রায় ৩০.৮ শতাংশ। অমরাবতী, সোলাপুর, লাতুর-সহ অন্তত ছয়টি জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

কেন খরা ঘোষণা?

রাজ্যের খরা ব্যবস্থাপনা বিধির নির্দিষ্ট মাপকাঠি মেনেই তহসিলগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি না হওয়া এবং তার প্রভাবের মতো একাধিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে ২৬৫টি তহসিলে খরার পরিস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস গত কয়েক দিনে লাতুর, ধারাশিব ও সোলাপুরের খরাপ্রবণ এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। এরপরই দ্রুত সরকারি ঘোষণা আসে।

বিজ্ঞাপন

কত টাকা পাবেন কৃষক?

খরা ঘোষণা হলেও এই মুহূর্তেই কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক সাহায্যের অঙ্ক ঘোষণা করা হয়নি। প্রথমে মাঠপর্যায়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা হবে। আধিকারিকদের ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিতে হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

সরকার ইতিমধ্যে খরাকবলিত এলাকার জন্য একাধিক ত্রাণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের ফি-সংক্রান্ত ছাড় এবং কর্মসংস্থানমূলক কাজ শুরুর ব্যবস্থাও রয়েছে।

একদিকে বন্যা, অন্যদিকে খরা—কেন এমন ছবি?

মহারাষ্ট্রের এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চলতি মরসুমের বৃষ্টির ঘাটতি এবং এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাব উঠে এসেছে বিভিন্ন আবহাওয়া বিশ্লেষণে।

অন্যদিকে, দেশের পূর্বাঞ্চলে বারবার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় অনেক জায়গায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে একই সময়ে দেশের এক অংশে অতিবৃষ্টি ও অন্য অংশে বৃষ্টির ঘাটতির ছবি দেখা যাচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *