ইস্টবেঙ্গল এফসি: ১ (পিভি বিষ্ণু) ইন্ডিয়ান আর্মি এফটি: ০
খবর অনলাইন ডেক: ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল ইস্টবেঙ্গল। রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্ডিয়ান আর্মি এফটি-কে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করল লাল-হলুদ। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন পিভি বিষ্ণু। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ এসসি দিল্লি। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে এফসি রেংদাইকে ৫-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে তারা।
– বিজ্ঞাপন –
জিতলেও ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের সুযোগ নষ্টের বহর চিন্তায় রাখবে কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাসকে। শুরু থেকে একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল লাল-হলুদ। দানি রামিরেজ়, জেসিন টিকে, বিপিন সিংহরা বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। সুযোগগুলি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল আরও বড় ব্যবধানে হতে পারত।
ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রামিরেজ়। ডান দিক থেকে ডেভিড লালানসাঙ্গার বাড়ানো বল ধরে বিপক্ষ গোলকিপারকে একা পেয়েও তাঁর হাতেই শট মারেন তিনি। কয়েক মিনিট পরেই পাল্টা আক্রমণে ইন্ডিয়ান আর্মির অভিষেকের দূরপাল্লার শটে বিপদে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কোনওমতে বলটি বারের উপর দিয়ে বার করে দেন গোলকিপার ফুর্বা লাচেনপা।

ইস্টবেঙ্গলের মোহাম্মদ রশিদের চেষ্টা কাজে এল না।
১৯ মিনিটে রামিরেজ়ের পাস থেকে ডেভিড ভাল সুযোগ তৈরি করলেও তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর পর লালচুংনুঙ্গার দূরপাল্লার শটও ভাল সেভ করেন সেনাবাহিনীর গোলকিপার মাল্লা।
বিজ্ঞাপন
অবশেষে ৩৭ মিনিটে গোলের মুখ খোলে ইস্টবেঙ্গল। বাঁ দিক থেকে ক্রিস ইকোনোমিডিসের নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন বিষ্ণু। তবে গোলের পরেই চোট পান তিনি। বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও আরও গোল না পাওয়ার আক্ষেপ ছিল ইস্টবেঙ্গলের।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বিষ্ণুকে তুলে বিপিন সিংহকে নামান হাবাস। ৫৫ মিনিটে মহম্মদ রশিদের দূরপাল্লার শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৫৯ মিনিটে ফের গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ইস্টবেঙ্গল। বিপিনের পাস পেয়ে জেসিন দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এমনকি গোলকিপারকেও পেরিয়ে যান। কিন্তু তাঁর শট গোলকিপারের গায়ে লেগে পোস্টে লাগে। সেই জায়গা থেকে সতীর্থকে পাস করলে গোল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি ছিল।

পিভি বিষ্ণুকে সতীর্থদের অভিনন্দন।
ম্যাচের শেষ দিকে ফের সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। ৬৮ মিনিটে রামিরেজ়ের শট বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৭৯ মিনিটে বিপিনের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি জেসিন। চার মিনিট পর জেসিনের পাস থেকে খুব কাছ থেকে গোলের বাইরে বল মারেন বিপিন।
এর মধ্যে ইন্ডিয়ান আর্মিও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে লাচেনপা ও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ সামলে নেয় পরিস্থিতি। শেষপর্যন্ত বিষ্ণুর একমাত্র গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়। জয় এলেও সেমিফাইনালের আগে সুযোগ কাজে লাগানোর জায়গায় হাবাসকে অবশ্যই ভাবতে হবে।
ছবি: সঞ্জয় হাজরা
