জনগণনার কাজে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ। তবে এ দিন পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বলেন, “শিক্ষকদের পড়াতে হয়। হয় তাঁদের জনগণনার কাজে লাগান, না হলে তাঁদের পড়াতে দিন।”
৩ অগস্টের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার
মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, গত ৩ অগস্ট জারি করা বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওই নির্দেশিকায় স্কুলের সময় শেষ হওয়ার পর শিক্ষকদের জনগণনার কাজে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।
– বিজ্ঞাপন –
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—
- জনগণনার কাজ শিক্ষকেরা ‘অন ডিউটি’ হিসাবেই করতে পারবেন।
- ডিএলএড প্রশিক্ষণরত শিক্ষকদের জনগণনার কাজ থেকে ছাড় দিতে হবে।
- শিক্ষকদের জনগণনার কাজে যুক্ত করা হলেও পড়ুয়াদের পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র দফতরকে আবেদন করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর।
শিক্ষক সংগঠনগুলির প্রশ্ন
শিক্ষা দফতরের নতুন বিজ্ঞপ্তি নিয়েও শিক্ষক সংগঠনগুলির মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে জনগণনার কাজে তাঁদের যুক্ত করার প্রভাব পঠনপাঠনে পড়বেই।
প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক ভাস্কর ঘোষের প্রশ্ন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুল করার পর শিক্ষকেরা কী ভাবে জনগণনার কাজ করবেন? বর্ষাকালে স্কুলের পর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কাজ করার বাস্তব সমস্যার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
অন্য দিকে, বিজেপি প্রাইমারি টিচার্স সেলের আহ্বায়ক অসিত মণ্ডলের বক্তব্য, ১০ বছর অন্তর জনগণনার কাজ হয়। শিক্ষকদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হলেও দেশের স্বার্থে আপাতত সকলের এগিয়ে আসা উচিত।
বিজ্ঞাপন
আগেও শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আদালত
জনগণনার কাজে বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে একসঙ্গে নিয়োগ করা নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন তুলেছিল হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, একসঙ্গে বহু শিক্ষককে না নিয়ে কয়েক জনকে এই কাজে নিয়োগ করা যেত। তাতে বাকি শিক্ষকেরা স্কুলের পঠনপাঠন সামলাতে পারতেন।
মঙ্গলবারও মামলার শুনানিতে জনগণনা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ। বুধবার শুনানি শেষ হলেও এখনও রায় ঘোষণা হয়নি।
