বিমানে উঠবে একরত্তি। প্রথম আকাশযাত্রা নিয়ে উত্তেজনা যেমন রয়েছে, তেমনই চিন্তাও কম নয় বাবা-মায়ের। উড়ানের সময় কান্নাকাটি করলে কী করবেন? কানে ব্যথা হবে না তো? দুধ বা খাবার সঙ্গে নেওয়া যাবে? ডাইপার বদলাবেন কখন? এমন একগুচ্ছ প্রশ্ন মাথায় ঘুরতেই থাকে। তবে সামান্য পরিকল্পনা করলেই শিশুকে নিয়ে বিমান সফর অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে।

একেবারে সদ্যোজাতকে নিয়ে সফর নয়

– বিজ্ঞাপন –

শিশুকে নিয়ে বিমানে ওঠার ক্ষেত্রে সব বিমান সংস্থার নিয়ম এক নয়। কিছু সংস্থা জন্মের কয়েক দিন পর থেকেই শিশুকে বিমানে ভ্রমণের অনুমতি দেয়। তবে চিকিৎসার দিক থেকে সদ্যোজাতকে নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভাল। সম্ভব হলে শিশুর বয়স অন্তত ২-৩ মাস হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে। কারণ, এই সময়ে সংক্রমণ বা ঠান্ডাজনিত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

ব্যাসিনেটের সুবিধা নিতে পারেন

দীর্ঘ বিমানযাত্রা হলে ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা বেশ কষ্টকর। তাই কিছু বিমান সংস্থা নির্দিষ্ট বয়স ও ওজনসীমার শিশুর জন্য ব্যাসিনেটের ব্যবস্থা করে। সাধারণত এই সুবিধা সীমিত সংখ্যক আসনের জন্য থাকে। তাই টিকিট কাটার পরই বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যাসিনেট বুক করার সুযোগ রয়েছে কি না জেনে নিন।

আসন বাছাইয়ে নজর

বিজ্ঞাপন

শিশুকে নিয়ে বিমানে বসার ক্ষেত্রে আসন নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। জানলার ধারের আসন অনেক সময় তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বিমান সংস্থার নিরাপত্তা নির্দেশ মেনে আসন বেছে নেওয়া। শিশুর আশপাশে গরম পানীয় বা অন্য যাত্রীর মালপত্র যাতে বিপদের কারণ না হয়, সে দিকেও নজর রাখুন।

উড়ান-অবতরণের সময় কানের অস্বস্তি

বিমান মাটি ছাড়ার সময় এবং অবতরণের সময় কেবিনের বায়ুচাপের পরিবর্তন হয়। এতে শিশুর কানে চাপ বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। এই সময় বুকের দুধ বা বোতলে দুধ খাওয়ালে কিংবা শিশুকে চোষার সুযোগ দিলে গিলতে সুবিধা হয়। ফলে কানের চাপ সামলাতেও সাহায্য করতে পারে। শিশুকে শান্ত রাখাও জরুরি।

ডাইপার থেকে জামা—সবই বাড়তি রাখুন

বিমানবন্দরে ঢোকার আগেই শিশুর ডাইপার বদলে নিলে সুবিধা হবে। পরনে থাকুক হালকা ও আরামদায়ক পোশাক। হাতের ব্যাগে অতিরিক্ত ডাইপার এবং অন্তত ২-৩ সেট জামাকাপড় রাখুন। শিশুর জামা হঠাৎ নোংরা হয়ে গেলে যাতে বিপাকে পড়তে না হয়, সে জন্য বাড়তি পোশাক অবশ্যই সঙ্গে রাখুন।

কানে তুলো নয়

বিমান ওঠা-নামার সময় বিমানের শব্দে শিশু অস্বস্তি বোধ করতে পারে। এই কারণে শিশুর কানে তুলো গুঁজে দেওয়া ঠিক নয়। তুলো কানের ভিতরে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রয়োজনে বয়স উপযোগী নিরাপদ হেডফোন বা ইয়ারমাফ ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি কোলে নিয়ে শিশুকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।

পছন্দের খেলনা রাখুন হাতের কাছে

দীর্ঘ সময় বিমানে বসে থাকা শিশুর কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই তার পছন্দের ছোট খেলনা, বই বা অন্য কোনও নিরাপদ জিনিস সঙ্গে রাখুন। একটু বড় শিশুর ক্ষেত্রে কার্টুনও কাজে আসতে পারে। তবে পুরো সফরজুড়ে স্ক্রিনের উপর নির্ভর না করে খেলনা, বই বা গল্পের মাধ্যমে তাকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।

শিশুর খাবার নিয়ে আগে জানুন নিয়ম

বুকের দুধ বা ফর্মুলা মিল্ক এবং শিশুর প্রয়োজনীয় তরল নিয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষার নিয়ম সাধারণ তরলের মতো নাও হতে পারে। তবে বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাভেদে নিয়ম বদলাতে পারে। তাই নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় শিশুর খাবারের কথা কর্তব্যরত আধিকারিককে জানিয়ে দিন।

কাগজপত্রও জরুরি

দেশের অভ্যন্তরীণ উড়ানে শিশুর পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়ম অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই বয়সের প্রমাণ হিসেবে জন্মনিবন্ধনের কপি সঙ্গে রাখা ভাল। আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে শিশুর নিজস্ব পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় ভিসা বা অন্যান্য নথি অবশ্যই থাকতে হবে।

শিশুকে নিয়ে প্রথম বিমান সফর তাই যতটা না কঠিন, তার চেয়ে বেশি জরুরি আগাম প্রস্তুতি। খাবার, ডাইপার, অতিরিক্ত জামাকাপড়, খেলনা এবং প্রয়োজনীয় নথি—সব কিছু আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন। আর টিকিট কাটার সময়ই সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার শিশুসংক্রান্ত নিয়মগুলি জেনে নিন। তাহলেই খুদের প্রথম আকাশযাত্রা হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি স্বস্তির।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *