খবর অনলাইন ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটদলের বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রাক্তন ভারতীয় পেসার এস শ্রীশান্ত। তাঁর মতে, ভারতীয় দলের একজন প্রচলিত কোচের প্রয়োজন নেই, বরং মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো একজন মেন্টর থাকলে দল আরও ভালো ফল করবে।
‘লাল্লনটপ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীশান্তকে প্রশ্ন করা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণ কী। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এবং ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ হেরেছিল ভারত। এই দুই পরাজয়ই গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ের সময়ে এসেছে।
– বিজ্ঞাপন –
এর জবাবে শ্রীশান্ত সরাসরি বলেন, “কোচ বদলান। ভারতের একজন কোচ নয়, একজন মেন্টর দরকার।”
তিনি আরও বলেন, “প্রথমে একজন বড় ভাইয়ের মতো হতে হবে। জিতলে শুধু হাসবেন আর হারলে রেগে যাবেন, তা হলে হবে না। আপনি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন, সেটা ঠিক। কিন্তু তাই বলে অন্যরা চেষ্টা করছে না, এমন নয়। একজন কোচের বদলে একজন মেন্টর থাকা উচিত।”
শ্রীশান্তের অভিযোগ, গৌতম গম্ভীর ক্রিকেটারদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি দলের ক্ষেত্রে এমন কোচের প্রয়োজন নেই, যিনি শুধুই চাপ বাড়ান। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির নাম।
শ্রীশান্ত বলেন, ধোনি কখনও খেলোয়াড়দের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতেন না। বরং তাঁর নেতৃত্বের মানসিকতাই ভারতীয় দলকে এগিয়ে নিয়ে যেত। সেই কারণেই বর্তমান ভারতীয় দলেরও ধোনির মতো একজন মেন্টর প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়াও, ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ জয়ের পুরো কৃতিত্ব গৌতম গম্ভীরকে দেওয়ার বিরুদ্ধেও মত প্রকাশ করেন শ্রীশান্ত। তাঁর দাবি, দলের সাফল্যের পিছনে ক্রিকেটারদের ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ জেতার পর সব কৃতিত্ব গৌতম গম্ভীরকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সঞ্জু স্যামসন যদি সেই পারফরম্যান্স না করতেন, সূর্যকুমার যাদব যদি নেতৃত্ব না দিতেন, কিংবা সঠিক সময়ে বোলিং পরিবর্তন না করা হত, তা হলে কি ভারত জিততে পারত?”
শ্রীশান্ত আরও প্রশ্ন তোলেন, “মাঠে কি কোচ সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন? যদি আশিস নেহরার মতো এমন কোচ হন, যিনি সব সময় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, সেটা আলাদা বিষয়।”
শ্রীশান্তের এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গৌতম গম্ভীরের কোচিং পদ্ধতি এবং ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই মন্তব্য ঘিরে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
