পাকিস্তান প্রতি বছর ৫ আগস্ট ‘ইউম-ই-ইস্তাহসাল’ বা ‘শোষণ দিবস’ পালন করে। ২০১৯ সালের এ দিনে ভারত জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদে এবং জম্মু কাশ্মিরের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে দিনটি পালন করে ইসলামাবাদ। তবে মানবাধিকার নিয়ে পাকিস্তানের এই অবস্থানের সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে।

সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত ওই বিশ্লেষণে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরিসরে কাশ্মিরের মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হলেও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মির, বেলুচিস্তান, সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করতে পারেনি ইসলামাবাদ।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল আইনসভায় কাশ্মিরের বাইরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামাবাদ স্থানীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বজায় রাখছে। তাদের দাবি, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তান সরকার বলছে, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের এমন ব্যাখ্যা তখনই গ্রহণযোগ্য হয়, যখন ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং জনগণের আস্থা নিশ্চিত করা যায়।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের বিক্ষোভকারীদের ‘শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করার সমালোচনাও করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে। সম্পাদকীয়তে বেলুচিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়। সেখানে বছরের পর বছর ধরে জোরপূর্বক গুম, নির্বিচার আটক এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, নিরাপত্তার অজুহাতে নাগরিক অধিকার উপেক্ষা করলে দীর্ঘমেয়াদে কোনো রাষ্ট্র স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারে না।

এতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গও টেনে বলা হয়, রাজনৈতিক অধিকার অস্বীকার এবং জনগণের দাবির জবাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ কোনো রাষ্ট্রের জন্য স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না। বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন শুধু আন্তর্জাতিক মহল থেকেই নয়, দেশটির ভেতর থেকেও উঠছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি এবং বিভিন্ন বিশ্লেষক সরকারের নীতি ও বাস্তব আচরণের মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

সম্পাদকীয়তে উপসংহারে বলা হয়, পাকিস্তান যদি মানবাধিকারের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে চায়, তবে তার শুরু হতে হবে নিজ দেশের ভেতর থেকেই। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মির, বেলুচিস্তান, সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার নিয়ে তাদের বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যাবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *