মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ কথা জানান। তবে তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আজ (২ মে) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, চিঠিতে তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আর কোনো সংঘর্ষ হয়নি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া লড়াই এখন শেষ হয়েছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, তবে তিনি এখনও সন্তুষ্ট নন। তার মতে, ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, যা সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড তাকে দুটি বিকল্প দিয়েছে। একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক পদক্ষেপ, অন্যটি সমঝোতার পথ। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান চায় এবং মাঝপথে থামবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বলা রয়েছে, কোনো প্রেসিডেন্ট সামরিক অভিযান শুরু করলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। অন্যথায় সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় এই সময়সীমা আর প্রযোজ্য নয়। তার ভাষায়, যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে সময় গণনা বন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, কংগ্রেসে এই বিষয়টি নিয়ে চাপ বাড়ছে। যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য ভোট হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজ্যুলেশন’ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার বিধান রয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, এই নৌপথ ব্যবহার করতে ইরানকে কোনো ধরনের অর্থ প্রদান করলে তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *