রাজস্থান রয়্যালস: ১৫৫-৯ (বৈভব সূর্যবংশী ৪৬, যশস্বী জয়সওয়াল ৩৯, বরুণ চক্রবর্তী ৩-১৪, কার্তিক ত্যাগী ৩-২২)

ক্যালকাটা নাইট রাইডার্স: ১৬১-৬ (রিঙ্কু সিংহ ৫৩ নট আউট, অনুকূল রায় ২৯ নট আউট, রবীন্দ্র জাদেজা ২-৮, নান্দ্রে বার্গার ১-২০) 

খবর অনলাইন ডেস্ক: কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টাটা আইপিএল ২০২৬-এ প্রথম জয়ের স্বাদ পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে দলের ত্রাতা হয়ে উঠলেন রিঙ্কু সিংহ। তাঁর অপরাজিত ৫৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং অনুকূল রায়ের কার্যকরী ২৯ রানের ক্যামিওতে মাত্র ২ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কেকেআর।

রাজস্থানের ঝোড়ো শুরু, পরে স্পিনে ধস

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুরন্ত সূচনা করে রাজস্থান রয়্যালস। তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী ২৮ বলে ৪৬ রান এবং যশস্বী জয়সওয়াল ২৯ বলে ৩৯ রান করে প্রথম উইকেটে ৮১ রানের জুটি গড়েন। পাওয়ার প্লে-র পরেও রাজস্থানের রান তোলার গতি ছিল দুর্দান্ত।

কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কেকেআরের দুই স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিন। বরুণ অসাধারণ বোলিং করে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। অন্যদিকে নারিন ২ উইকেট তুলে রাজস্থানের মাঝের সারিকে চাপে ফেলে দেন।

বিনা উইকেটে ৮১ থেকে রাজস্থান মুহূর্তে ১২৪/৫ হয়ে যায়। শেষ দিকে কার্তিক ত্যাগী ১৯তম ওভারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে রাজস্থানের স্কোর আরও আটকে দেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে রাজস্থান শেষ করে ৯ উইকেটে ১৫৫-য়।

কেকেআরের শুরুতেই ধাক্কা

১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে কেকেআর। নান্দ্রে বার্গার ও জোফ্রা আর্চারের আগুনে বোলিংয়ে প্রথম ৮ বলের মধ্যেই টিম সেইফার্ট ও অজিঙ্কা রাহানে শূন্য রানে ফেরেন।

এর পর ক্যামেরন গ্রিন ২৭ রান করলেও ধ্রুব জুরেলের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে আউট হন। ভালো ফর্মে থাকা অংকৃশ রঘুবংশীকেও ফিরিয়ে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। ১১ ওভারে কেকেআরের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৭০। কিছুক্ষণের মধ্যেই রভম্যান পাওয়েল আউট হলে দল কার্যত হারের মুখে পড়ে যায়।

অবশেষে জয় পেল কেকেআর। ছবি KolkataKnightRiders ‘এক্স’ থেকে নেওয়া।

রিঙ্কু-অনুকূলের অবিশ্বাস্য জুটি

শেষ ৯ ওভারে দরকার ছিল ৮৬ রান। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে লড়াই শুরু করেন রিঙ্কু সিং ও অনুকূল রায়। শুরুতে দু’জনেই ধৈর্য ধরে সিঙ্গেল-ডাবলস নিয়ে এগোতে থাকেন।

১৬তম ওভারে রবি বিষ্ণোইকে আক্রমণ করে ১৯ রান তোলেন তাঁরা।সেখান থেকেই ম্যাচ ঘুরে যায়। অনুকূল ১৬ বলে অপরাজিত ২৯ রান করেন এবং আর্চারের ওভারে বড় ছক্কা মেরে সমীকরণ সহজ করে দেন।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৯ রান। বল করতে আসেন ব্রিজেশ শর্মা। প্রথম দুই বলেই রিঙ্কু দুটি চার মেরে ম্যাচ কেকেআরের মুঠোয় নিয়ে আসেন। এর পর স্কোর সমান হলে শর্ট বল টেনে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। একই সঙ্গে পূর্ণ করেন নিজের অর্ধশতরানও।

কেকেআর উঠে এল এক ধাপ

এই জয়ে কেকেআর মরসুমের প্রথম দুই পয়েন্ট অর্জন করল। ৭টা ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা লিগ টেবিলে এক ধাপ উঠে এসে নবম স্থানে রইল। অন্যদিকে রাজস্থান রয়্যালস শীর্ষে ওঠার সুযোগ হারাল। ৬টি ম্যাচ থেকে ৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা রইল দ্বিতীয় স্থানে।

একসময় ম্যাচ পুরোপুরি রাজস্থানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু ক্রিকেটে শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কিছুই শেষ নয়—সেই প্রমাণ আবার দিল কেকেআর। আর বড় ম্যাচে রিঙ্কু সিং যে এখনও সেরা ফিনিশারদের একজন, সেটাও আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল। তবে এ দিন প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হলেন বরুণ চক্রবর্তী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *