রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ২৪০/৪ (সল্ট ৭৮, রজত ৫৩, হার্দিক ৩৯/১)
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ২২২/৫ (রাদারফোর্ড ৭১*, হার্দিক ৪০, সুযশ ৪৭/২)
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১৮ রানে জয়ী।
‘মুম্বইচা রাজা’ বনাম ‘কিং’। রো বনাম কো। যেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু নয়, আসল ম্যাচ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মধ্যে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছাড়লেও দু’জনে ঝড় তুলতে জানেন। কিন্তু ওয়াংখেড়েতে মুম্বইকে জেতাতে পারলেন না রোহিত। আরসিবি’র বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স হারল ১৮ রানে। ব্যাটে-বলে একেবারে ‘দশে দশ’ পারফরম্যান্স আরসিবি’র। ফিল সল্ট, রজত পাতিদারদের ব্যাটে ভর করে বেঙ্গালুরু তুলেছিল ২৪০ রান। ঘরের মাঠে হার্দিক পাণ্ডিয়ারা আটকে গেলেন ২২২ রানে। আগের ম্যাচে বৈভবদের কাছে হারার পর জয়ের সরণিতে ফিরল বেঙ্গালুরু। কোহলি হাফসেঞ্চুরি করলেন ঠিকই, তবে স্ট্রাইক রেট বেশ খারাপ। তবে ব্যাটে নয়, দুই দলের জন্যই দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে মাঠ ছাড়লেন রো-কো। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে রোহিত পুরো ব্যাট করতে পারলেন না। অন্যদিকে গোড়ালির চোটে কোহলিকে ফিল্ডিংয়ের সময় মাঠে দেখা গেল না। দুজনেরই চোট কতটা গুরুতর, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
এই বিষয়ে আরও খবর
যেটা বলা সম্ভব, সেটা হল নিজেদের উপর চাপ বাড়াল মুম্বই। এদিন ঘরের মাঠে টসে জিতে বেঙ্গালুরুকে ব্যাট করতে পাঠান মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক। কিন্তু কে জানত তাঁর এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যাবে! শুরু থেকেই ঝড় তোলেন বেঙ্গালুরু ওপেনার ফিল সল্ট। শার্দূল ঠাকুরের বলে সল্ট ফিরলেন ৩৬ বলে ৭৮ রানে। তাঁর ইনিংস সাজানো ৬টি চার, ৬টি ছক্কায়। তিনি যখন ফিরলেন আরসিবি’র রান ১০.৫ ওভারে ১২০। সল্টের ফর্মে ফেরা নিঃসন্দেহে আশ্বস্ত করবে আরসিবি’কে। কোহলি ৫০ রান করতে নিলেন ৩৮ বল। হার্দিক পাণ্ডিয়ার বলে আউট হয়ে বেরনোর সময় হেলমেট-গ্লাভস ছুড়ে মারেন। অন্যদিকে অধিনায়ক রজত পাতিদার নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই ব্যাট চালান। নিঃশব্দে কাজ করে যেতে ভালোবাসেন। শুধু কথা বলে তাঁর ব্যাট। প্রায় প্রতি ম্যাচেই ২৫০-র উপর স্ট্রাইক রেট থাকে। যেমন এদিন ছিল ২৬৫। মিচেল স্যান্টনারের বলে ২০ বলে ৫০ রানে আউট হওয়ার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪টে চার ও ৫টা ছয়। শেষবেলায় টিম ডেভিড ১৬ বলে ৩৪ রান করে যান। যার সুবাদে আরসিবি তুলল ২৪০ রান। যা আইপিএলে ওয়াংখেড়েতে কোনও দলের সর্বোচ্চ রান।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কখনও এতো রান তাড়া করে যেতেনি। এবারও যে তাদের ব্যাটিং খুব আহামরি হচ্ছে না, তা নয়। প্রথম ম্যাচে নাইট রাইডার্সকে হারানোর পর কোনও কিছুই ‘ক্লিক’ করছে না। এদিন ছবিটা অনায়াসে বদলাতে পারত। বিশেষ করে রায়ান রিকেলটন যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তাতে বেশ চাপেই পড়ে যান জেকব ডাফিরা। এদিন জশ হ্যাজেলউডকে খেলায়নি বেঙ্গালুরু। কোনও নির্দিষ্ট কারণও জানায়নি। সেই সুযোগ নিতে ভুল করেননি রিকেলটন। তাল কাটল রোহিতের চোটে। ৫.২ ওভারে আচমকাই হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা অনুভব করেন। মাঠের মধ্যে চিকিৎসা করেও লাভ হয়নি। ৫.২ ওভারে মাঠ ছাড়েন তিনি। ১৩ বলে ১৯ রানের ইনিংসে সেভাবে ছন্দেও দেখায়নি। এর কিছুক্ষণের মধ্যে আউট রিকেলটন। ২২ বলে ৩৭ রান করে ফেরেন তিনি। তিলক বর্মা এদিনও রান পেলেন না। বিশ্বকাপের খারাপ ফর্ম এখানেও অব্যাহত। এরপর সূর্যকুমার-হার্দিক মিলে রানের পাহাড় টপকানোর কাজ শুরু করেন। তবে প্রশংসা করতে হয় আরসিবি’র বোলিং ও রজতের নেতৃত্বকে। ঠিক সময়ে সুযশ শর্মাকে এনে তিলক ও রিকেলটনের উইকেট তুলে নিলেন। মাঝে ভুবনেশ্বর কুমারকে দিয়ে একটা ‘সস্তা’ ওভার করিয়ে নিলেন। ভালো বল করলেন রশিখ দারও। ক্রুণাল পাণ্ডিয়াকে এগিয়ে দিলেন হার্দিক-সূর্যর জন্য। প্রতি ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও ক্রুণাল বাউন্সার দিয়ে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করলেন। আবার হার্দিক যখন হাত খুলতে শুরু করেছেন, তখন জেকব ডাফিকে কাজে লাগালেন। ২২ বলে ৪০ রানের ইনিংসের শেষের দিকে ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না মুম্বই অধিনায়কের। অফ স্টাম্পের বাইরে বাইরে বল করে তাঁকে বন্দি করলেন ডাফি।
তিনি আউট হওয়ার পরই মুম্বইয়ের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। ৫ ওভারে ৯৪ রান করা নমন ধীরদের কাজ নয়। শেরফিন রাদারফোর্ডের ৭১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটা আর কাজে লাগেনি। শেষমেশ মুম্বই হারল ২২২ রানে। ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বিরাটরা তিন নম্বরেই রইলেন। ২ পয়েন্ট নিয়ে মুম্বই রইল ৮ নম্বরে। হার্দিকদের জন্য চিন্তা বাড়াবে রোহিতের চোট ও জশপ্রীত বুমরাহর ফর্ম। টানা চার ম্যাচে একটিও উইকেট পাননি। সম্ভবত নিজের আইপিএল কেরিয়ারে প্রথমবার। আরেকটা প্রশ্ন উঠছে, আদৌ হার্দিক তাঁকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন কি না। সেই কোন ‘ভোরে’ তাঁকে দু’ওভার করিয়ে রেখে দিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরসিবি যখন বেদম মার মারছে, তখন বুমরাহকে অন্তত একটা ওভার দেওয়া উচিত ছিল। যদিও সেসবের ধার ধারেননি পাণ্ডিয়া। পাশে তো বিশ্বজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও থাকেন। তাঁর থেকে পরামর্শ নিলে মুম্বইয়ের জন্য খারাপ হবে না।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
