শিশুদের উপর যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় বাংলাদেশের পশ্চিম জনপদ জেলা মেহেরপুর। সেখানে ৩ ছাত্রকে নির্যাতনের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মাদ্রাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। জামাতের সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন হওয়ায় দলটির কর্মীরা মাদ্রাসা রক্ষায় এগিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ লোকজন আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরের ওই মাদ্রাসায় তিন ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর মাদ্রাসার পাশাপাশি থানাও ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেন অভিভাবকদের সঙ্গে এলাকাবাসীরাও।

বৃহস্পতিবার রাতে মুজিবনগর কেদারগঞ্জ বাজারে মুজিবনগর আইডিয়াল মাদ্রাসা ও দারুল হিফজখানা বোর্ডিংয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামাতের আমির মওলানা তাহাজ উদ্দিন ওই ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। এই কাণ্ডে ভুক্তভোগী এক শিশুর অভিভাবক বাদীপক্ষ হয়ে থানায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। পরে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভুক্তভোগী শিশুদের। গ্রেপ্তার নূর উদ্দিন ওই মাদ্রসার আরবি শিক্ষক। তিনি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার টেংগাচোড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন জেলার শিশুরা এই বোর্ডিং মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করে। বৃহস্পতিবার রাতে তিন শিশুকে ‘ধর্ষণে’র ঘটনা জানাজানি হলে মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধরা।

আরও পড়ুন:

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ও মামলার বাদী বলেন, তার ছেলে ওই মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করে। বৃহস্পতিবার রাতে আরেক ছাত্রের অভিভাবকের মাধ্যমে মাদ্রাসায় ‘শিশু ধর্ষণের’ ঘটনা শুনে রাত ৩টে নাগাদ সেখানে গিয়ে তিনি ১০ বছরের ছেলেকে উদ্ধার করেন। শিশুটি তার পরিবারকে বলেছে, বোর্ডিংয়ের আরবি শিক্ষক নূর উদ্দিন তাকেসহ তিন ছাত্রকে মাঝেমধ্যেই গভীর রাতে ‘রুমে নিয়ে খারাপ কাজ’ করে। এমনকি ঘটনার দিনও ওই শিক্ষক তার সঙ্গে ‘৩-৪ বার খারাপ কাজ’ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম এবং মাজেদুর রহমান জানিয়েছে, তারা মুজিবনগর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় কয়েকজনকে মাদ্রাসার দিকে ছুটতে দেখেছেন। তারা বলেন, ওই মাদ্রাসায় ছাত্রদের সঙ্গে ‘খারাপ কাজ’ করা হচ্ছে। ছেলেদের বাঁচাতে তারা স্থানীয়দের সাহায্য চান। তাদের আকুতি শুনে শতশত মানুষ সেখানে জড়ো হয় এবং মাদ্রাসা ঘেরাও করে। তখন জামাত কর্মীরা সেই শিক্ষককে উদ্ধার করে মাদ্রাসা রক্ষায় এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। একসময়ে জনগণের রোষের মুখে এবং পুলিশের উপস্থিতিতে জামাত কর্মীরা পিছু হটে যায়। তখন পুলিশ মাদ্রাসায় ঢুকে সেই শিক্ষককে আটক করে এবং শিশুদের উদ্ধার করে।স্থানীয় কয়েকজন বলেছেন, এমন অভিযোগ তারা প্রায়ই শুনতেন, কিন্তু আগে ‘বিশ্বাস হয়নি’।

এই ঘটনায় মুজিবনগর উপজেলা জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মো. খায়রুল বাশার বলেন, “রাতেই এই ঘটনা নিয়ে সোশাল মিডিয়ার ছড়ানো হয়। মাদ্রাসাটি জামাতের আমিরের। জামাতের কর্মীরা এটা মিথ্যা দাবি করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল।” শিক্ষক সোহেল রানার দাবি, “এই মাদ্রাসার সঙ্গে মেহেরপুর জেলা জামাতের আমির তাহাজ উদ্দিন খাঁনের কোনও সম্পর্ক নেই। মাদ্রাসাটির পরিচালক জামাতের আমিরের বড় ভাই সেলিম হোসেন খাঁন, প্রিন্সিপাল হাফেজ বায়োজিত হোসেন।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *